ব্যবসা লাটে, রাস্তা বন্ধ, ফুঁসছে বণিক মহল থেকে জনতা
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: পুলিশের দমন-পীড়ন, দিনের পর দিন অবরুদ্ধ দিল্লি, দোকানপাট বন্ধ, গৃহবন্দি আম জনতা। আন্দোলন-আতঙ্কে এটাই রাজধানীর বর্তমান চিত্র। আর এতেই এবার বিদ্রোহে ফেটে পড়ছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ থেকে ব্যবসায়ী। পথেঘাটে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে পুলিশের সঙ্গে তর্কবিতর্ক, ক্ষোভের বিস্ফোরণ। শনি-রবি উইকএন্ডের পর সোমবার কাজের দিনও কেন বন্ধ একঝাঁক মেট্রো স্টেশন? কেন রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড? পাশাপাশি, চিঠি গিয়েছে দিল্লির পুলিশ কমিশনারের কাছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে। স্রেফ চিঠি নয়, হুঁশিয়ারি। দিল্লির ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত মঞ্চ চেম্বার অব ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বিবৃতি দিয়েছে—পুলিশের অতিরিক্ত কড়াকড়ি ও দমনপীড়নের জন্য দিনে ২ হাজার কোটি টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি সহ্য করা অসম্ভব। চেম্বারের চেয়ারম্যান ব্রজেশ প্যাটেল সোমবার বলেন, ‘বিক্ষোভ-আন্দোলন হবেই। পুলিশের দায়িত্ব সেটা নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা। কিন্তু দিল্লিবাসী কী অপরাধ করেছে? প্রতিদিন বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে রাস্তা বন্ধ, বাজার বন্ধ, দোকান বন্ধ, মানুষকে আগে থেকেই ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে! উৎসবের ঠিক মধ্যেই একটা শনি-রবিবার চলে গেল। অথচ দোকান বাজারে বেচাকেনা নেই?’ ব্রজেশ প্যাটেল বলেছেন, ‘২০ লক্ষাধিক ব্যবসায়ী আছে দিল্লিতে। এই লোকসান আমরা মেনে নেব না। পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, যাই হোক না কেন জোর করে দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট আটকে দেওয়া চলতে পারে না।’

Advertisement

নবরাত্রি শুরু হয়ে গিয়েছে। রামলীলা পালা, মন্দিরে মন্দিরে নিত্যদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা মানুষের আগমন। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এই পরিস্থিতিতে যেভাবে দিল্লি দুর্গে পরিণত হয়েছে, তাকে নরকযন্ত্রণা ছাড়া কিছু বলতে চাইছে না দিল্লিবাসী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও সোমবার একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ ছিল। তাতে ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছে। সেন্ট্রাল দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি ‘রোড স্ট্রেচ’-এ সোমবার যান চলাচল ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাঁচ মিনিটের রাস্তা ঘুরপথে পেরতে সময় লেগেছে প্রায় আধঘণ্টা। যন্তরমন্তরের কাছে ছ’টি মেট্রো স্টেশনও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। বিকাল ৫টার পর স্বাভাবিক হয় পরিষেবা। ফলে দিল্লির একাধিক রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে মানুষ। অবরুদ্ধ, তিতিবিরক্ত নাগরিকদের অনেককেই এদিন আঙুল উঁচিয়ে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ওদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে দিন। আমাদেরও স্বস্তি দিন।’ ইন্ডিয়া জোট, ককরোচ জনতা পার্টি। এবার আম জনতা। বিদ্রোহ ছড়াচ্ছে?