Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আগাম ঘোষণা ছাড়াই করিমপুর-কৃষ্ণনগর রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

করিমপুর-কৃষ্ণনগর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে। কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা চালু হবে না। বিস্তারিত পড়ুন।

আগাম ঘোষণা ছাড়াই করিমপুর-কৃষ্ণনগর রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা
  • ১৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: আগাম কোনো ঘোষণা ছাড়াই শনিবার আচমকা করিমপুর-কৃষ্ণনগর রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাসকর্মীরা। ফলে সকাল থেকে ওই রুটে একটিও বাস না চলায় বহু মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। অনেককে বেশি টাকা খরচ করে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। অনেকে বাস না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। সম্প্রতি মারধরের জেরে এক বাসকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই বাস বন্ধের সিদ্ধান্ত বলে দাবি করা হয়েছে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় দেড়শো বাস চলাচল করে। শনিবার সকালে কলকাতা রুটে কয়েকটি বাস চললেও হঠাৎ কৃষ্ণনগর রুটের সমস্ত বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মস্থল, চিকিৎসা বা অন্যান্য জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েন। 
হোগলবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা শামসুল মোল্লা জানান, শনিবার রাতে তাঁর হাওড়া থেকে চেন্নাইগামী ট্রেনে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু, বাস না চলায় করিমপুর স্ট্যান্ডে এসে তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। একইভাবে শিকারপুরের বাসিন্দা চঞ্চল মণ্ডল জানান, কৃষ্ণনগরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভরতি থাকা তাঁর এক আত্মীয়কে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। বাস বন্ধ থাকায় তিনি যেতে পারেননি। 
বাসকর্মীদের দাবি, জেলার বিভিন্ন রুটে টোটো ও অটোর সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ছোটো গাড়িগুলি বাসস্ট্যান্ড এবং বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী তুলে নেওয়ায় বাসমালিকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এনিয়ে মাঝেমধ্যেই বাসকর্মীদের সঙ্গে টোটো ও অটোচালকদের বচসা, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও হয়েছে বলে অভিযোগ।
নদীয়া জেলা বাসমালিক সমিতির সভাপতি দুর্জয় সিংহরায় বলেন, বাস মালিকরা পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মীরাই নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাস চালানো বন্ধ রেখেছেন। টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্যের বিষয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সম্প্রতি বাসকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তাই কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষেবা স্বাভাবিক করা কঠিন। 
নদীয়া জেলা বাস শ্রমিক ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য রমেশ দেবাবু অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে জেলার একটি রুটে একজন বাসকর্মীকে মারধর করা হয়েছিল। পরে তাঁর মৃত্যুও হয়। এরপরও যদি আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয়। টোটোচালকদের বাড়বাড়ন্তের ফলে বাস চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ