মাটি ও বালির জোগান না থাকায় ঘাটালে সঙ্কটে ইটভাটা মালিকরা
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: পুজোর ছুটি কাটলেই ইটভাটায় আগুন জ্বলার কথা। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে, দলে শ্রমিকদের আসার সময় হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি ও বালির জোগান না থাকায় চরম সঙ্কটে পড়েছেন ঘাটাল মহকুমা-সহ গোটা রাজ্যের ইটভাটা মালিকরা। বৈধভাবে বালি ও মাটি সংগ্রহের জন্য ‘বেঙ্গল ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর তরফ থেকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী এবং পঞ্চায়েত মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন কর্তারা। কিন্তু তাতেও  খোলেনি জট। সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা দাসপুর-১ ব্লকের এক ইটভাটার মালিক সৈয়দ সাব্বির আহমেদের আক্ষেপ, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে শুধু ‘দেখছি’ বলেই ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কাঁচামালের অভাবে আগামী মরশুমে ইটের উৎপাদন বন্ধ থাকলে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে রাজ্যজুড়ে। সাধারণ মানুষের বাড়ি তৈরির কাজ যেমন ধাক্কা খাবে, তেমনই সরকারি আবাসন প্রকল্পগুলিও ইটের অভাবে থমকে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।  ইট শিল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমনির্ভর ক্ষেত্র। সাব্বির আহমেদ বলেন, এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত লাখ, লাখ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের রুজি এখন ঝুঁকির মুখে। এমনিতেই সম্পূর্ণ খোলা আকাশের নীচে চলা এই মরশুমি শিল্পকে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়। তার উপর কাঁচামালের এই অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের তরফে দাবি জানানো হচ্ছিল, নদী বা খাল সংস্কারের সময় যে মাটি তোলা হয়, তা নির্দিষ্ট সরকারি রাজস্ব ও রয়্যালটির বিনিময়ে ইটভাটাগুলিকে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। অতীতে কিছু ক্ষেত্রে এমন অনুমতি মিললেও, বাস্তবে পর্যাপ্ত মাটি পাননি মালিকরা। উলটে সিন্ডিকেটের দাপটে অত্যন্ত চড়া দামে মাটি কিনতে বাধ্য হতে হয়েছে তাঁদের। বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে। বৈধ ইটভাটাগুলির জন্য মাটি বা বালি সংগ্রহের প্রয়োজনীয় কোনো সরকারি ছাড়পত্র মিলছে না। ঘাটাল মহকুমায় এক সময় ১২টি ইটভাটা থাকলেও এখন রয়েছে মাত্র পাঁচটি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৭২টি। সারা রাজ্যে ‘বৈধ-অবৈধ’ মিলিয়ে ইট ভাটার সংখ্যা প্রায় ন’হাজার। প্রশাসনের তরফে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইট ভাটার মালিকরা। তাঁদের বক্তব্য, অবৈধ ভাটাগুলি পরিবেশ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীদের কাছে অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করে। তবে সংগঠনের দাবি, অবৈধ ভাটা বন্ধের পাশাপাশি বৈধ ইটভাটাগুলির সমস্যার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যাঁরা দিনের পর দিন নিয়ম মেনে, সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে ভাটা চালাচ্ছেন, তাঁদের কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য একটি  স্বচ্ছ, সহজ ও বাস্তবসম্মত নীতি অবিলম্বে প্রণয়ন করা দরকার। পাশাপাশি পরিবেশ দপ্তরের ছাড়পত্র নবীকরণের কাজও দ্রুত নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

Advertisement