নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার সকাল থেকে কড়া রোদ, ভ্যাপসা গরমও ছিল। কিন্তু তা পুজোর আগে বাঙালিকে দমাতে পারেনি। পুজো প্রায় দোরগোড়ায়। গান্ধী জয়ন্তীর একটি ছুটি পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা হয়ে হাজির হয়েছে। সে ছুটি নষ্ট করলে চলবে না। ফলে চলো গড়িয়াহাট কিংবা হাতিবাগান। নয়ত চলো এসপ্ল্যানেড বা শপিং মল। ঘাম মুছতে মুছতে ঘোরাঘুরি চলল দিনভর। কলকাতার সর্বত্র সকাল থেকে শপিংয়ের বিপুল ভিড়। সন্ধ্যার পর খুশি-সুখী দম্পতি হাতে ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। বাচ্চারা নতুন জামা পেয়ে আহ্লাদে গদগদ। রাতের দিকে রোল-চাউমিন-বিরিয়ানি-আইসক্রিমের দোকানে মুখও চলল টুকটাক। বাজার করতে করতে যদিও সবাই বললেন, ‘এই গরমের মধ্যে কেনাকাটা করা যায়?’ বলেই শুরু করলেন দরদাম। যতই গরম হোক ময়দান ছাড়লেন না। ঘর্মাক্ত শরীরেই জামাকাপড়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চলল দেদার দরদস্তুর। সে কাজে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কেউই কম যান না। নিউ মার্কেটের দোকানদার বললেন, ‘একের পর এক জামা দেখে গেলেন, কিন্তু কিছুই কিনলেন না!’ মহিলা ক্রেতার পাল্টা জবাব, ‘পছন্দ হলে তবে না কিনব, আশ্চর্য!’ বলেই পরের দোকানে ঢুকে গেলেন। এবার সেখানে শুরু দরদাম। ‘এই গরমে বাজার করতে ভালো লাগে? শুধু তো আর গরম নয়, তার সঙ্গে এমন ভিড়! কিন্তু যাই হোক পুজোর বাজার তো করতেই হবে’ এই বলে বাচ্চা মেয়েকে কোলে নিয়ে হাঁটা শুরু করলেন। বাজার করতে করতে খিদে তো পাবেই। সকাল থেকেই ধর্মতলার প্রায় সমস্ত হোটেলে ভিড়। নামকরা রেস্তরাঁয় টেবিল পাওয়ার অপেক্ষায় লাইন দিতে দেখা গেল অনেককে। চুচুঁড়া থেকে বাজার করতে আসা এক দম্পতি আইসক্রিমের দোকানে বসে বললেন, ‘সকালেই বেরিয়ে পড়েছি। অনেক বাজার করতে হবে। এখানেই খাওয়া-দাওয়া সেরে নেব। এখন একটু বসি। আবার তো হাঁটতে হবে।’



