Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে পুজোর শপিং ছুটির দিনে উত্তর-দক্ষিণে ব্যাপক ভিড়

শুক্রবার সকাল থেকে কড়া রোদ, ভ্যাপসা গরমও ছিল। কিন্তু তা পুজোর আগে বাঙালিকে দমাতে পারেনি। পুজো প্রায় দোরগোড়ায়।

রোদে পুড়ে, ঘামে ভিজে পুজোর শপিং ছুটির দিনে উত্তর-দক্ষিণে ব্যাপক ভিড়
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুক্রবার সকাল থেকে কড়া রোদ, ভ্যাপসা গরমও ছিল। কিন্তু তা পুজোর আগে বাঙালিকে দমাতে পারেনি। পুজো প্রায় দোরগোড়ায়। গান্ধী জয়ন্তীর একটি ছুটি পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা হয়ে হাজির হয়েছে। সে ছুটি নষ্ট করলে চলবে না। ফলে চলো গড়িয়াহাট কিংবা হাতিবাগান। নয়ত চলো এসপ্ল্যানেড বা শপিং মল। ঘাম মুছতে মুছতে ঘোরাঘুরি চলল দিনভর। কলকাতার সর্বত্র সকাল থেকে শপিংয়ের বিপুল ভিড়। সন্ধ্যার পর খুশি-সুখী দম্পতি হাতে ব্যাগ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। বাচ্চারা নতুন জামা পেয়ে আহ্লাদে গদগদ। রাতের দিকে রোল-চাউমিন-বিরিয়ানি-আইসক্রিমের দোকানে মুখও চলল টুকটাক। বাজার করতে করতে যদিও সবাই বললেন, ‘এই গরমের মধ্যে কেনাকাটা করা যায়?’ বলেই শুরু করলেন দরদাম। যতই গরম হোক ময়দান ছাড়লেন না। ঘর্মাক্ত শরীরেই জামাকাপড়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চলল দেদার দরদস্তুর। সে কাজে ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কেউই কম যান না। নিউ মার্কেটের দোকানদার বললেন, ‘একের পর এক জামা দেখে গেলেন, কিন্তু কিছুই কিনলেন না!’ মহিলা ক্রেতার পাল্টা জবাব, ‘পছন্দ হলে তবে না কিনব, আশ্চর্য!’ বলেই পরের দোকানে ঢুকে গেলেন। এবার সেখানে শুরু দরদাম। ‘এই গরমে বাজার করতে ভালো লাগে? শুধু তো আর গরম নয়, তার সঙ্গে এমন ভিড়! কিন্তু যাই হোক পুজোর বাজার তো করতেই হবে’ এই বলে বাচ্চা মেয়েকে কোলে নিয়ে হাঁটা শুরু করলেন। বাজার করতে করতে খিদে তো পাবেই। সকাল থেকেই ধর্মতলার প্রায় সমস্ত হোটেলে ভিড়। নামকরা রেস্তরাঁয় টেবিল পাওয়ার অপেক্ষায় লাইন দিতে দেখা গেল অনেককে। চুচুঁড়া থেকে বাজার করতে আসা এক দম্পতি আইসক্রিমের দোকানে বসে বললেন, ‘সকালেই বেরিয়ে পড়েছি। অনেক বাজার করতে হবে। এখানেই খাওয়া-দাওয়া সেরে নেব। এখন একটু বসি। আবার তো হাঁটতে হবে।’

Advertisement

নিউমার্কেটে যেমন ভিড়। একই চিত্র হাতিবাগান ও গড়িয়াহাটে। সন্ধ্যা হতেই হাতিবাগানের রাস্তা দিয়ে গাড়ির গতি গেল কমে। অন্যদিকে গড়িয়াহাটে ট্রাফিক সিগন্যাল সবুজ হতেই যেন জনস্রোত ধাক্কা খেল। দলে দলে মানুষ রাস্তা পারাপার করছেন। বিকেলে গড়িয়াহাট মোড়ের সিগন্যালে প্রায় মিনিট দশেক দাঁড়িয়ে গাড়ি। বাসে কিংবা গাড়িতে বসে থাকা যাত্রীরা বিরক্ত। তা সত্ত্বেও সবার বক্তব্য, ‘বছরের এই সময় গড়িয়াহাটে ভিড় তো হবেই। কারওরই কিছু করার নেই। আমরা এসব জেনেই তো বাড়ি থেকে বেরিয়েছি।’ বলে আগের স্টপেজেই নেমে পড়লেন। একটা পাঞ্জাবি এক্ষুণি কিনতেই হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ