


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যে পালবদল হতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সুরক্ষা নিয়ে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। আর সেইমতো উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তে কাঁটাতার বসানো নিয়ে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা তীব্র হয়েছে। জমি বিএসএফের হাতে দ্রুত তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে দপ্তর। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি তিনদিন অন্তর জেলাশাসকের দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে। রবিবার, ছুটির দিনেও জেলাশাসকের কার্যালয়ে সুরক্ষা বিষয়ক ‘রিভিউ’ বৈঠক হল। সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্ত দপ্তরকে একছাতার তলায় এনে কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয় এদিন। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া, জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের পাশাপাশি বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপার অলকানন্দা ভাওয়াল, বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা এবং ভূমিদপ্তর ও বিএসএফ আধিকারিকরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, পুরো সীমান্ত এলাকাকে মৌজাভিত্তিতে ভাগ করে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথায় জমি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, কোথায় নথি আটকে আছে, কোথায় এনওসি বাকি—সবই আলাদা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত মোট ৩৫৩ একর জমির মধ্যে প্রায় ১৮০ একর জমি সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে বিএসএফকে। বাকি জমি হস্তান্তর দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনিক স্তরে চাপ বাড়ানো হয়েছে। একাধিক জায়গায় জমি ক্রয় ও অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে ফেন্সিং না-থাকার কারণে সীমান্তে একাধিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। উন্মুক্ত সীমান্ত হওয়ায় অনুপ্রবেশ রোধ, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় জমির সীমানা নির্ধারণ (ডিমারকেশন) সম্পূর্ণ না-হওয়ায় কাজের গতি ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া জলাভূমি ও নদীঘেঁষা এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা নদীপথ দিয়েই নির্ধারিত হবে বলে বিএসএফ আগেই জানিয়েছে। ফলে, ওই অংশে আলাদা করে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর পরিকল্পনা নেই। মূল কাজের চাপ পড়ছে স্থলভাগের সীমান্ত এলাকায়। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া। কাজের গতি বাড়াতে প্রতিনিয়ত নজরদারি চালাচ্ছেন তিনি। এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়া বলেন, প্রতি তিনদিন অন্তর পুলিশ, বিএসএফ এবং বিভিন্ন বিভাগকে নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হচ্ছে এই কাজে গতি আনার জন্য। বাকি জমি বিএসএফকে হস্তান্তর করা হবে দ্রুত।