সংবাদদাতা, বনগাঁ: একটি খুনের মামলায় নজিরবিহীন নির্দেশ দিলেন বনগাঁ আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক ২ প্রদীপকুমার অধিকারী। জেলার দু’টি থানার পুলিস অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। শনিবার খুনের মামলার রায়ে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় আইন বা সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মানা হয়নি। পুলিস লকআপে অভিযুক্তকে অত্যাচারের যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা সঠিক মনে হয়েছে। তাই সেদিনের থানার সিসিটিভি ফুটেজ এবং জিডি খাতা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিস জানিয়েছে, অর্ডারের কপি দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত বছর এপ্রিল মাসে দাদাকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বনগাঁ রাখালদাস হাইস্কুলের শিক্ষক মসিউর রহমান। অভিযুক্তের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তারি নিয়ে ফৌজদারি আইনে বা সুপ্রিম কোর্টের যে গাইডলাইন আছে, সেগুলির একটিও মানা হয়নি। প্রথমে বনগাঁ কোর্টের এসিজেমের কাছে আবেদন করা হয়। তিনি সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত। ১০ মাস ধরে মামলার শুনানি চলে। গত ২৪ এপ্রিল এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে খুন করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা। গাইঘাটা থানার জামদানি এলাকা থেকে পুলিস দেহ উদ্ধার করে। মৃত ব্যক্তি মফিজুর রহমান (৪৬) বাদুড়িয়া থানার দক্ষিণ চাতরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় মৃতের ভাই মসিউরকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। মফিজুরের স্ত্রী সোহেলি আহমেদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। এদিন বিচারক ২০ হাজার টাকার বন্ডে ধৃতকে জামিন দেন।



