


সংবাদদাতা, কান্দি: ফুটবল কুড়াতে গিয়ে বোমা ফেটে মারাত্মক জখম হল দুই বালক। শুক্রবার বিকেলে ভরতপুর থানার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামে এঘটনা ঘটে। জখম সুবান শেখ ও সাহিল শেখকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভরতপুর থানার পুলিস সেখানে পৌঁছয়। ঘটনাস্থলের কাছে মাটিতে একটি ব্যাগ পুঁতে রাখা ছিল। ওই ব্যাগে আরও বোমা আছে সন্দেহ করে পুলিস এলাকা ঘিরে রাখে। তবে শনিবার বম্ব স্কোয়াড এসে মাটি খুঁড়ে খালি ঝোলা উদ্ধার করেছে।
পুলিস জানিয়েছে, রোজকার মতো ওইদিনও বিকেলে গ্রামের একদল বালক কবরস্থানের পাশের মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল। ঘণ্টাখানেক খেলার পর বিকেল পাঁচটা নাগাদ ফুটবলটি কবরস্থানের পাশের ঝোপে গিয়ে পড়ে। সেই বল কুড়িয়ে আনার দায়িত্ব পড়ে ১২ বছরের সুবান ও ১১ বছরের সাহিলের উপর। দু’জনই বল কুড়াতে ঝোপে ঢুকে পড়ে। কয়েক সেকেন্ড পর বিকট শব্দ হয়। ঝোপ থেকে কালো ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে এলাকাপ বাসিন্দারা ছুটে যান। তাঁরা জখম অবস্থায় দুই বালককে উদ্ধার করেন। সুবান ও সাহিল ওই ঝোপের মধ্যে রাখা একটি বোমার সংস্পর্শে চলে এসেছিল। সেটি ফেটেই তারা জখম হয়। সন্ধ্যায় দুই বালককেই কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবারও তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর ভরতপুর থানার পুলিস পৌঁছে ওই জায়গা ঘিরে ফেলে। তল্লাশির সময় পুলিস দেখতে পায়, ওই ঝোপের মধ্যে মাটি খুঁড়ে একটি ঝোলা রাখা হয়েছে। তাতে বোমা থাকার আশঙ্কা করে পুলিস বম্ব স্কোয়াডে খবর দেয়। শনিবার দুপুরে বম্ব স্কোয়াড অবশ্য মাটি খুঁড়ে ফাঁকা ঝোলা উদ্ধার করে। ভরতপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, কীভাবে ওখানে বোমা এল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জখম সাহিলের মা আনারকলি বিবি বলেন, ছেলেরা প্রতিদিনই ওখানে খেলতে যায়। এদিন আমার ছেলে ফুটবল কুড়াতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণে জখম হয়। এভাবে বোমা পড়ে থাকবে, কোনওদিন চিন্তাও করতে পারিনি। স্থানীয়রা জানান, একসময় ময়ূরাক্ষীর বালিঘাটের দখল নিয়ে প্রায়দিনই বোমাবাজি হতো। কিন্তু ইদানীং সেসব হয় না। তবু ফের মাঠেঘাটে বোমা পড়ে থাকায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।