সংবাদদাতা, কাঁথি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার ভয়ঙ্কর জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হল দীঘার সৈকত। সমুদ্রের রুদ্ররূপে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সৈকতসহ সংলগ্ন এলাকার। এদিনই সমুদ্রে খোঁজ মেলে নৈহাটির নিখোঁজ কিশোরীর মৃতদেহের।
সংবাদদাতা, কাঁথি: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে শুক্রবার ভয়ঙ্কর জলোচ্ছ্বাসে বিপর্যস্ত হল দীঘার সৈকত। সমুদ্রের রুদ্ররূপে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সৈকতসহ সংলগ্ন এলাকার। এদিনই সমুদ্রে খোঁজ মেলে নৈহাটির নিখোঁজ কিশোরীর মৃতদেহের।
শুক্রবার ভোররাত থেকেই শুরু হয় জলোচ্ছ্বাস। গার্ডওয়াল টপকে জল উঠে আসে রাস্তায়। জলের ঝাপটায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় একের এক পর দোকানপাট ও পর্যটন পরিকাঠামো। বিশাল বিশাল ঢেউ গার্ডওয়ালে আছাড় মারে। কোথাও ছিল হাঁটুজল, কোথাও এক কোমর জল। একইভাবে মন্দারমণি ও তাজপুরে পর্যটন কেন্দ্রেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিনোদন পার্ক সহ নানা পর্যটন পরিকাঠামো। দীঘায় ফুটপাত ছাপিয়ে মূল রাস্তায় জল চলে আসে। সৈকত লাগোয়া বিভিন্ন স্টল ও অস্থায়ী দোকানগুলির কমবেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরাও। এদিকে এদিন বিকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি ঘুরে দেখেন বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল, দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার (ডিএসডিএ) সিইও প্রতীক অশোক ধুমল সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বিধায়ক এবং ডিএসডিএর সিইও বলেন, দীঘায় পার্ক সহ সৌন্দর্যায়নের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া নানা পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোরই সংস্কার হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার উত্তাল সমুদ্রে স্নানে নেমে তলিয়ে নিখোঁজ উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির কিশোরী কাশ্মীরা খাতুনের (১৪) দেহ অবশেষে উদ্ধার হল। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল ঘাটে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে স্নানের সময় তলিয়ে গিয়েছিল ওই কিশোরী। স্পিড বোট নামিয়ে তল্লাশি চালিয়েও দেহ মেলেনি। শুক্রবার সমুদ্রে দেহটি ভেসে আসে, যেখানে সে স্নান করতে নেমেছিল সেখানেই। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মেয়েকে নিথর অবস্থায় পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের লোকজন। জলোচ্ছ্বাস আর সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা মাথায় রেখে সকাল থেকেই লাগাতার মাইকিং করে পুলিশ। পর্যটকদের সমুদ্রের ধারেকাছে যেতে বারণ করা হয়। ভাটার সময় কেউ যাতে সমুদ্রে নেমে না পড়েন, তারজন্য ঘাটগুলিতে নজরদারি চালানো হয়। পর্যটকরা নিরাপদ দূরত্বে থেকেই সমুদ্রের মজা উপভোগ করেন। বিকালের দিকে জল ক্রমশ নামতে থাকে। কলকাতার ঠাকুরপুকুরের শ্যামলকুমার দাস, বারাকপুরের বাবু সিং বলেন, আমরা ইতিপূর্বে অনেকবার দীঘায় এসেছি। কিন্তু সমুদ্রের এমন রুদ্ররূপ আগে দেখিনি। দেখে মজা পেলাম। তবে জলোচ্ছ্বাসের জেরে অনেকের ক্ষতি হয়েছে দেখেও খারাপ লাগছে।
এদিন সকাল থেকেই জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে দমকা হাওয়া এবং বৃষ্টি চলতে থাকে। ঝাপটা এবং জল ঢুকে গিয়ে স্থায়ী দোকানগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাঁরা পসরা সাজিয়ে বসেন, তাঁদের সমস্ত সামগ্রীও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা মালপত্র বাঁচাতে বৃষ্টির মধ্যেই সৈকতে ছুটে বেড়িয়েছেন। জলের তোড়ে কংক্রিটের গার্ডওয়াল বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পের দরজা খুলে ভেসে যায়। ওল্ড দীঘায় বিনোদন পার্ক এবং তার সৌন্দর্যায়নের নানা পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনিতেই গত কয়েকদিন ধরে জলোচ্ছ্বাসের জেরে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তার উপর শুক্রবার আরও ক্ষতির মুখে পড়লেন হোটেল মালিক এবং ছোট ব্যবসায়ীরা। ঘূর্ণিঝড় সরে গেলেও তার প্রভাবে দীঘার সমুদ্র ফুঁসছিল। শুক্রবার আরও অশান্ত হয়ে ওঠে সমুদ্র। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ২০১২ সালে ‘যশ’ ঘূর্ণিঝড়ের পর দীঘার সৈকত আর এমন বিপর্যস্ত হয়নি।