Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৩০ ঘণ্টা পর ঘাগরা জলপ্রপাতে পাথরের খাঁজ থেকে উদ্ধার বারুইপুরের বধূর দেহ, দুর্ঘটনা রুখতে দেওয়া হবে রেলিং, জানালেন স্থানীয় বিধায়ক

টানা ৩০ ঘণ্টা তল্লাশির পর উদ্ধার হল প্রীতি দত্তের দেহ। শনিবারের পর রবিবারও দিনভর তল্লাশি চলে

৩০ ঘণ্টা পর ঘাগরা জলপ্রপাতে পাথরের খাঁজ থেকে উদ্ধার বারুইপুরের বধূর দেহ, দুর্ঘটনা রুখতে দেওয়া হবে রেলিং, জানালেন স্থানীয় বিধায়ক
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: টানা ৩০ ঘণ্টা তল্লাশির পর উদ্ধার হল প্রীতি দত্তের দেহ। শনিবারের পর রবিবারও দিনভর তল্লাশি চলে। পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ডুবুরির দলও আনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ ঘাগরা জলপ্রপাতের পাথরের খাঁজ থেকে উদ্ধার হয় বারুইপুরের নিখোঁজ গৃহবধূর দেহ। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রুখতে জলপ্রপাতের ধারে রেলিং দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক প্রণত টুডু। এদিন স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বামী রাজদীপ দত্ত। বারুইপুরে দত্ত পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। মৃতার কাকাশ্বশুর সমীর দত্ত বলেন, ‘সকাল থেকে একটা মিরাকলের আশায় ছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় এল দুঃসংবাদ। প্রিয়ঙ্কনের কী হবে, তা ভেবে পাচ্ছি না।’ বাড়িতে প্রীতিদেবীর মৃত্যুর খবর আসতেই শোকস্তব্ধ প্রতিবেশীরাও। উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে ছেলে প্রিয়ঙ্কনকে বাঁচাতে গিয়ে জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন মা প্রীতিদেবী। ছেলেকে উদ্ধার করা গেলেও প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান তিনি। 

Advertisement

বেলপাহাড়ির অন্যতম পর্যটনস্থল ঘাগরা জলপ্রপাত। তারাফেনী নদীর জল ঘাগরা গ্ৰামে পাথরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নদীর জল পাথরের উপর থেকে নীচে গিয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিন জলের স্রোত বেশি রয়েছে। শনিবার কলকাতার একটি পর্যটক দলের সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের বাসিন্দা রাজদীপ দত্ত, তাঁর স্ত্রী প্রীতি ও তাঁদের সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কন ঘাগরা জলপ্রপাতে বেড়াতে এসেছিলেন। দুপুরের দিকে পাথরের উপর পর্যটকদের দলটি বসেছিল। আচমকা প্রিয়ঙ্কন জলে পড়ে যায়। ছেলেকে বাঁচাতে প্রথমে জলে ঝাঁপ দেন প্রীতি। ছেলেকে স্রোতে ভেসে যেতে দেখে রাজদীপবাবুও জলে ঝাঁপ দেন। প্রিয়ঙ্কনকে উদ্ধার করতে পারলেও প্রীতিদেবী তলিয়ে যান। সারারাত আলো জ্বালিয়ে তল্লাশি চলে। কিন্তু জলের প্রবল স্রোতে তা বার বার ব্যাহত হয়। এদিন সকাল থেকে ফের জোরকদমে শুরু হয় তল্লাশি। শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যায় প্রীতিদেবীর দেহ উদ্ধার হয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর যাতে না ঘটে, সেজন্য নজরদারির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বিনপুরের বিধায়ক বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো ও মাইকিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।’ ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মধুসূদন কর্মকার বলেন, ‘দেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ঘাগরা জলপ্রপাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়ানো ও এমন ঘটনা রুখতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ