পঞ্চমীর বিকালে চুঁচুড়ায় বন্ধ ঘর  থেকে গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, ফোন বন্ধ করে উধাও স্বামী
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ঘরের বাইরের দরজায় দু’দিন ধরে তালা ঝুলছে। সন্দেহ হওয়ায় জানালা দিয়ে উঁকি দিয়েছিলেন প্রতিবেশীরা। তারপরই শোরগোল পড়ে এলাকায়। পঞ্চমীর বিকালে চুঁচুড়ার প্রতাপপুর এলাকার একটি বাড়ির তালা ভেঙে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করল পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধারের পর মৃতার স্বামীকে ফোন করার চেষ্টা করেন পুলিশ অফিসাররা। কিন্তু তাঁর ফোন সুইচড অফ পাওয়া যায়। ফলে এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে রহস্য জমাট বেঁধেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম সানন্দা বারিক (৩৫)। তিনি প্রতাপুরের মধুসূদন মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে স্বামীর সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। গত ছ’বছর ধরে ওই দম্পতি ভাড়া ছিলেন। মৃতার স্বামীর নাম মোহন বারিক। তিনি আদতে ওড়িশার পুরীর বাসিন্দা। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ ও প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বামী ও স্ত্রী দু’জনেই প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। মোহন বারিক একটি শাড়ি কোম্পানির কর্মী। দম্পতি আধুনিক জীবনযাপন করতেন। গত মঙ্গলবার তাঁদের দু’জনকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। বাড়ির মালিক মধুসূদন মুখোপাধ্যায় বলেন, বুধবার ঘরে তালা ঝুলতে দেখেছি। বৃহস্পতিবারও বিকাল পর্যন্ত তালা দেখে সন্দেহ হয়। জানা গিয়েছে, এরপর স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালা ফাঁক করে উঁকি দিলে একজনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত পুলিশের কাছে খবর যায়। পুলিশের একটি দল এসে বাড়ির সদর দরজার তালা ভাঙে। দেখা যায়, মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় সানন্দা পড়ে রয়েছেন। তাঁর দেহে প্রাণ ছিল না। শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন। পাশাপাশি তাঁর স্বামীর হদিশ না মেলায় এই মৃত্যুকে খুন বলেই পুলিশ তার প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, জানালা বন্ধ রাখা, দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া, সবটাই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। তদন্তে সবই স্পষ্ট হবে। এখন মোহন বারিকের হদিশ পাওয়া জরুরি। চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।