নবান্নের কাছে যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার,  পাশ থেকে মিলল একগুচ্ছ পেরেক ও কেবল
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: নবান্নের কাছে শরৎ চ্যাটার্জি রোডে দু’টি বহুতলের মাঝের রাস্তা থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ অঞ্জন চক্রবর্তী ওরফে ছোটকা (৩৫) নামের ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক পেরেক ও কেবল। তাঁকে খুন করা হয়েছে, নাকি নেশার ঘোরে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নবান্ন থেকে প্রায় দেড়শো মিটার দূরে ছোটো ভট্টাচার্য পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এদিন সকালে রাস্তার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন বাসিন্দারা। মাথা থেকে প্রচুর রক্ত বেরচ্ছিল তাঁর। পাশে পেরেক ও কেবল পড়ে থাকায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে। গলায় তার পেঁচিয়ে এবং পেরেক দিয়ে আঘাত করে তাঁকে খুন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে প্রাথমিক তদন্তে নেশার ঘোরে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবি, ছোটকা নিয়মিত নেশা করতেন। নির্দিষ্ট কোনো কাজ না থাকায় তাঁকে এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। তবে ইলেকট্রিকের কাজ জানতেন তিনি। সেই কাজ করেই কোনোরকমে নিজের খরচ চালাতেন। এক সময় মায়ের সঙ্গে ওই পাড়াতেই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। বছরখানেক আগে ভাড়া দিতে না পারায় তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে মায়ের মৃত্যু হলে কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন ছোটকা। নবান্নের আশপাশে এবং দ্বিতীয় হুগলি সেতুর কাছে বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে রাত কাটাতে দেখা যেত।
মৃতের বন্ধু সৈকত পালের দাবি, তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোটকা ছিলেন ছোটো। ব্যাতাইতলা বাজারে তাঁদের পরিবারের একটি ছবি তোলার দোকান রয়েছে। নেশা করলেও মানুষ হিসাবে ছোটকা খারাপ ছিলেন না বলে তাঁর দাবি। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নেশা করার কারণে ছোটকাকে মাঝেমধ্যেই কেউ কেউ মারধর করত। শনিবার রাতে তেমন কোনো ঘটনার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।