


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: রক্তের হাহাকার কিছুতেই যেন থামছে না পুরুলিয়ার দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রতিদিন রক্তের খোঁজে অসংখ্য রোগীর পরিজনরা আসছেন। রক্ত না পেয়ে ফিরেও যাচ্ছেন অনেকে। এখনও গরম পড়েনি সেইভাবে। এখনই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে গ্রীষ্মকালে কী হবে? প্রশ্ন উঠছে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের এই অবস্থা কেন? রক্তের সঙ্কট মেটাতে রাজনৈতিক দলগুলিই বা কী করছে?
পুরুলিয়া মেডিক্যালের ব্লাড ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন রোগীর পরিজন হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের খোঁজে আসেন। প্রতিমাসে শুধুমাত্র থ্যালাসমিয়া রোগীদের জন্যই ৩৫০ ইউনিটের বেশি রক্তের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সেই চাহিদার ৯০ শতাংশও পূরণ হয় না। হাসপাতলের ব্লাড ব্যাঙ্কে নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত তো পাওয়া যায় না বললেই চলে। পজিটিভ গ্রুপেরও এক ইউনিট রক্ত পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘বি পজিটিভ’-এর মতো ‘সহজলভ্য’ এক ইউনিট রক্তের জন্যও মাথা খুঁড়তে হয় হাসপাতালে। হত্যে দিয়ে পড়ে থাকতে হয় ব্লাড সেন্টারের বাইরে। তাতেও কোনও লাভ হয় না।
হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারে রক্ত না পেয়ে অনেকেই আবার রক্তদাতার খোঁজে ছোটাছুটি করেন। কেউ ডোনার পান, কেউ পান না। রক্তের অভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে বহু জটিল অপারেশন। সমস্যায় পড়তে হয় স্ত্রী ও প্রসূতি বিভাগের রোগীদের। তবে, সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় থ্যালাসেমিয়া রোগীদের। যেমন, বাঘমুণ্ডির সুইসার বাসিন্দা দুলালচন্দ্র কুইরীর ১৫ বছরের ছেলে দোলগোবিন্দ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত। প্রতি ৩০-৪০ দিন অন্তর বি পজিটিভ রক্ত দিতে হয় তাকে। দুলালবাবু বলছিলেন, গত ২১ মার্চ থেকে রক্তের জন্য ঘুরছি। দু’দিন হাসপাতালে পড়ে থাকলাম। তবুও রক্ত পেলাম না। গত ৩১ মার্চ ছেলের অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ছেলেকে পুরুলিয়া মেডিক্যালে ভর্তি করি। তারপর ডাক্তারবাবুদের হাতে পায়ে ধরে রক্ত পেয়েছি। তিন ইউনিট দেওয়ার কথা থাকলেও এক ইউনিটই পেয়েছি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে। এরপর কী করব জানি না।
প্রতি ১০-১২ দিন ছাড়া রক্ত দিতে হয় আড়ষার থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত অর্চনাকে। অথচ, কোনওবারেই সময়ে রক্ত মেলে না। চোখের সামনে মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারে না অর্চনার পরিবার।
কেন রক্তের এত আকাল? হাসপাতালের এক কর্তা বলেন, রক্তদাতার সংখ্যা কম। জেলায় রক্তদান শিবিরও খুব কম হয়। সেই কারণেই এই পরিস্থিতি। তবে, এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম সহ রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক দলের ব্যানারে প্রতি ব্লকে মাসে একটি রক্তদান শিবির হয় কি না সন্দেহ! তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী সুমিতা সিং মল্ল মানছেন, জেলায় সত্যিই রক্তের সঙ্কট রয়েছে। আমি দলের সকল কর্মীকে আরও বেশি করে শিবিরের আয়োজন করার অনুরোধ করব। একই দাবি জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায়েরও।
অন্যদিকে, এসএফআইয়ের প্রাক্তন জেলা সম্পাদক সুব্রত মাহাত বলেন, প্রতি মাসে শিবির না হলেও আমরা মানুষের রক্তের প্রয়োজন পড়লে ঝাঁপিয়ে পড়ি। রক্তের ব্যবস্থা করে দিই। নিজস্ব চিত্র