সংবাদদাতা, কান্দি: সালারের সাত বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ধৃত ব্যবসায়ী এখন পুলিশের হেপাজতে। সেই ঘটনায় এবার রাজনৈতিক রং ধরল। জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যবসায়ী এবারের ভোটে বিজেপি পোলিং এজেন্ট ছিল। এনিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে এবার বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিজেপি ওই শিশু কন্যার পরিবারের পাশে দাঁড়ায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা। পাল্টা এমন ঘটনায় কংগ্রেসের রাজনীতি করাটা পছন্দ করছেন না বিজেপি নেতারা।
প্রসঙ্গত, সালার থানা এলাকার সাত বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে সোমবার রাতে পাড়ার এক মুদি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ধৃত বিচিত্র পান্ডেকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে এখন সে পুলিশ হেপাজতে রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ধৃত ব্যবসায়ীর রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসে। এরপর থেকে এলাকায় চর্চা তুঙ্গে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই ব্যবসায়ী বিজেপির দাপুটে কর্মী। এবারের বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অনামিকা ঘোষ। স্থানীয়দের দাবি, বিজেপি প্রার্থীর ছায়াসঙ্গী হিসেবে গ্রামে কাজ করেছে ধৃত ব্যক্তি। ওই গ্রাম থেকে বিজেপি লিডও নিয়েছিল।
এদিকে ঘটনা প্রেক্ষিতে বুধবার কান্দি মহকুমা কংগ্রেস সভাপতি তথা স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ আজাহারউদ্দিন বলেন, এবার বিজেপি নেতারা কার পক্ষে দাঁড়াবেন সেটাই দেখার। বিজেপির নেতারা অভিযুক্তের পক্ষে দাঁড়াবেন, না শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন তা দেখার অপেক্ষা। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিজেপি নেতারা কি থানায় যাবেন? বিজেপির একজন সক্রিয় কর্মী ও পোলিং এজেন্ট একটি দুধের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। এটা ওদের দলের কাছেও লজ্জার। আমরা শিশুটির পরিবারের পাশে রয়েছি।
এদিকে এনিয়ে বিজেপি নেত্রী অনামিকা ঘোষকে তিনবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজনকেও দু’বার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। এদিন বিকেল পর্যন্ত তাঁরা কল ব্যাকও করেননি। তবে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য অপূর্ব দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, নাবালিকা নির্যাতন ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া অবস্থান নেবে। তাই এখানে দলের কেউ জড়িত থাকলেও রেহাই পাবে না। এসব নিয়ে রাজনীতি না করাই শ্রেয়। স্থানীয় বাসিন্দা তথা দলের ভরতপুর ২ ব্লকের বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জীব ঘোষ বলেন, আমরা নির্যাতিতা শিশুর পরিবারের পাশে রয়েছি। কোনো অবস্থানেই অভিযুক্তকে সমর্থন করা যায় না। জানা গিয়েছে, প্রায় ১৮ দিন আগে সকালের দিকে গ্রামে মনসা পুজোর দিন সালার থানার ওই গ্রামে বাড়ির পাশেই মুদির দোকানে গিয়েছিল সাত বছরের ওই শিশু। অভিযোগ, সেই সময় এলাকা ফাঁকা পেয়ে কন্যা শিশুকে দোকান ঘরের ভিতরে টেনে নিয়ে যায় ওই ব্যবসায়ী। এরপর কন্যা শিশুর বস্ত্র খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। সোমবার রাতে এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে গন্ডগোল বাধলে শিশুর পরিবার পুলিশে অভিযোগ করে।