নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের দুই প্রান্তের উপনির্বাচনে রেকর্ড জয় বিজেপির। নিজের ছেড়ে আসা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম তো বটেই, ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর কেন্দ্র থেকেও দলীয় প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৫ রাউন্ডের গণনা শেষে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোট ব্যবধানের রেকর্ড গড়ে জয়ী হয়েছেন। টপকে গিয়েছেন পালাবদলের পর ফলতা উপনির্বাচনে জয়ের ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটের ব্যবধান। রেজিনগর আসনে বিজেপির শাখারভ সরকারের জয়ের ব্যবধান ৭৫ হাজার ৮১৬ ভোট। উপনির্বাচনে এই দুই কেন্দ্রে বিজেপির তরফে অনেক রথী-মহারথী প্রচারে নামলেও, শুভেন্দুই ছিলেন ‘স্টার ক্যাম্পেনার’। প্রচারে গিয়ে ‘বন্ধুত্বের’ হাত বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে। শুক্রবার গণনার শেষ লগ্নে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা—‘বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে। বাংলাভাষী মুসলমানরা ঢেলে ভোট দিয়েছেন।’ তাঁর দাবি, ‘নন্দীগ্রামে মুসলিম ভোটের ৬০ শতাংশ এবং রেজিনগরে ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বিজেপির দুই প্রার্থী। যাঁরা ভেবেছিলেন, ক্ষমতায় এসে সবাইকে বাংলাদেশে পাঠানো হবে, গত কয়েকমাসে সরকারের কাজকর্ম দেখে তাঁরাই আমাদের সমর্থন করেছেন। সবাই মূলস্রোতে এসেছেন।’ দুই আসনের ফলাফলে উচ্ছ্বসিত শুভেন্দুর প্রত্যয়ী বার্তা—‘আগামী যত নির্বাচন হবে, দেখবেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট সব আমাদের পক্ষেই আসবে।’
জোড়া উপনির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল এখন ভেঙে দু’টুকরো। জোড়াফুল প্রতীক হারিয়ে মমতা তৃণমূল ‘ফুটবলার’ আর ঋতব্রতপন্থীরা ‘খাম’ নিয়ে উপনির্বাচনের লড়াইয়ে নেমেছিল। রেজিনগরে মমতার প্রার্থী ৩ হাজার ৮৪৭টি ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থান দখল করেছেন। ঋতব্রতপন্থীরা ‘নোটা’কে হারিয়ে ষষ্ঠ স্থানে। নন্দীগ্রামে অবশ্য প্রার্থী ছিল না মমতা তৃণমূলের। ঋতব্রত তৃণমূলের প্রার্থীর ঝুলিতে পড়েছে মাত্র ৮৫৩টি ভোট। তবে শুভেন্দু-গড় বলে পরিচিত নন্দীগ্রামে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে কংগ্রেসের। গত বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এখানে পেয়েছিল মাত্র ৭৯৪টি ভোট। এবার নির্বাচনি পর্বে জেলযাত্রা এবং পরে জামিনে মুক্ত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান তা বাড়িয়ে ৪১ হাজার ৬৭৪টিতে নিয়ে গিয়েছেন। তবে কি বিরোধী হিসেবে কংগ্রেসের উত্থান হচ্ছে রাজ্যে? শুভেন্দুর যদিও সাফ জবাব, ‘ওটা মৃত পার্টি! রাহুল গান্ধীকে এনে পাড়ায় পাড়ায় ঘোরালেও লাভ হবে না।’



