


প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: ছাব্বিশে জঙ্গলমহল দখলের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি। সেই স্বপ্ন সফল করতে প্রচারে আনা হয়েছে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিজেপি নেতাদের। সেই বহিরাগত মাতব্বরদের দাপাদাপিতে কোণঠাসা জেলার নেতারা। নীচুতলার নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
অঙ্গ, কলিঙ্গের পর এবার হবে বঙ্গ দখল। ডবল ইঞ্জিন এখানেও হবে। বহিরাগত গেরুয়া নেতারা জেলায় এসে এমনই আস্ফালন করছেন। জঙ্গলভূমির মানুষের কাছে অঙ্গ, কলিঙ্গ ও ডবল ইঞ্জিনের অর্থ অবোধ্য। বঙ্গ বিজয়ের স্বপ্ন বিভোর বাইরের নেতাদের এই কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় জেলার নীচুতলার বিজেপি নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কাজে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। সেই কাজকেও ভাঁওতা বলে প্রচার করছেন ভিন রাজ্যের নেতারা। বাস্তবজ্ঞান বর্জিত নেতাদের এই প্রচারে নীচুতলার নেতাকর্মীরা আরও চটছেন। জেলার ঢাল তলোয়ারহীন বিজেপি নেতাদের প্রতি পদে রাজ্য নেতাদের কথা শুনে চলতে হয়। তাই ভোট আসতেই কেন্দ্র থেকে আসা বাঁধা গতের কথা হরিনাম সংকীর্তনের মতো আওড়াতে হচ্ছে। জেলা নেতাদের নিধিরাম সর্দারের ভূমিকা নিয়ে নীচুতলার নেতাকর্মীদের অসন্তোষ বাড়ছে। বিনপুর-২ ব্লকের বেলপাহাড়ী, বাঁশপাহাড়ী, ভুলাভেদা এলাকায় ভিন রাজ্যের নেতারা গত একমাস ধরে প্রচার চালাচ্ছেন। গেরুয়া ‘দিকু’ নেতাদের সঙ্গে এলাকার তরুণদের ঘোরাঘুরি বাড়ায় আদিবাসী সমাজের মোড়লরা উদ্বিগ্ন। বাঁশপাহাড়ীর এক বিজেপি কর্মী বলেন, স্থানীয় মানুষের অভাব ও অভিযোগ নিয়ে প্রচার নেই। মানুষ ওদের বহু কথার অর্থই বুঝতে পারছে না। জেলা নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানো হলে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের নির্দেশ সকলকে মেনে চলতে হবে। বিনপুর-২ ব্লকের ভুলাভেদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য মাসাং টুডু বলেন, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে নেতারা এই এলাকায় প্রচারে আসছেন। তার প্রভাবও পড়ছে। উনিশ সালের তুলনায় এখানে সংগঠনের জোর বেড়েছে। ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে নথিভুক্ত কাজের অধিকাংশই হয়নি। আমরা প্রচারে তা তুলে ধরছি। বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, ওঁর বাইশ নম্বর বুথে সোলার লাইট লাগানো হয়েছে। রাস্তার একটা অংশের কাজ হয়েছে। উনিই আবার বলে বেড়াচ্ছেন, কিছুই কাজ হয়নি। বিকাশবাবু বলেন, আদিবাসী সমাজের তরুণদের মগজ ধোলাই করা হচ্ছে। ভারত যুদ্ধে অঙ্গ, কলিঙ্গ দখলের পর বঙ্গ দখল করা নিয়ে এলাকায় প্রচার চালানো হচ্ছে। আদিবাসী সমাজের মানুষ এইসব শব্দের অর্থই জানেন না। আদিবাসী সমাজের মানুষ ওদের ফাঁদে যাতে না পড়েন, তা নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।
বিজেপির জেলা সভাপতি তুফান মাহাত বলেন, বিজেপি সর্বভারতীয় দল। স্থানীয় নেতৃত্ব দিয়েই কাজ হচ্ছে। বিজেপির প্রচারে ভয় পেয়েই তৃণমূলের লোকেরা এসব বলে বেড়াচ্ছেন। জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূণ ষড়ঙ্গি বলেন, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিজেপি নেতাদের এই জেলায় প্রচারে আনা হচ্ছে। আদিবাসী মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। জেলার মানুষের সংস্কৃতি ও বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ হওয়ায় ভুলভাল বক্তব্য রাখছেন তাঁরা। আদিবাসী মানুষ ওদের অনেক আগেই ত্যাগ করছে। ভুল বুঝিয়ে কিছু করতে পারবে না।