Bartaman Logo
৬ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভরাটের নামে মিথ্যা রটিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা, তোলা চেয়ে ফোন বিজেপি নেতার, থানায় পালটা অভিযোগ পুকুর মালিকের

কিছুদিন আগে বরানগরে পুকুর ভরাটের অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপির এক স্থানীয় নেতা। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে বরানগর থানায়।

ভরাটের নামে মিথ্যা রটিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা, তোলা চেয়ে ফোন বিজেপি নেতার, থানায় পালটা অভিযোগ পুকুর মালিকের
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কিছুদিন আগে বরানগরে পুকুর ভরাটের অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপির এক স্থানীয় নেতা। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তোলাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে বরানগর থানায়। তাতে বলা হয়েছে, তোলাবাজির জন্যই পুকুর ভরাটের মিথ্যা অভিযোগ করেছিলেন তিনি, যাতে ব্ল্যাকমেইল করতে পারেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পুকুরের জলে বিষ মিশিয়ে মাছ মেরে দেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে। এনিয়ে বরানগরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন বার বার জমি, বাড়ি ও পুকুর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তোলাবাজির মতো অপরাধে বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে দলের অন্দরে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে। 

Advertisement

বরানগরের তালতলা মাঠের পিছনে রেডক্রস লাগোয়া এলাকায় একটি বড়ো পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরের মালিক জয়ন্ত ঘোষ। সম্প্রতি বরানগরে পুকুর ভরাট হচ্ছে বলে সমাজমাধ্যমে অভিযোগ তুলেছিলেন বিজেপি নেতা রাজীব মিশ্র। তাঁর বিরুদ্ধে এবার বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পুকুরের মালিক জয়ন্তবাবু। তিনি অভিযোগে বলেছেন, বরানগর পুরসভায় টাকা জমা দিয়ে পুকুর পরিষ্কারের কাজ করছিলাম। গত ২৭ সেপ্টেম্বর পুরসভার শ্রমিকরা এসেই সেই কাজ করছিলেন। ওই সময় রাজীব মিশ্রের নেতৃত্বে একদল লোক এসে পুকুর সংস্কারের কাজে বাধা দেন। পুকুর ভরাটের মিথ্যা অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের মারধর পর্যন্ত করা হয়। এমনকি, পুকুরে বিষও ঢেলে দেয়। তাতে প্রচুর মাছ মরে যায়। এরপর রাজীব ফোন করে দু’ লক্ষ টাকা চান। বলেন, ওই টাকা না দিলে পুকুর পরিষ্কার করতে দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা পুকুর পাড়ে একটি অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে এবং সেখানে বসে নানা অবৈধ কাজকর্ম করে। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার রুমা দত্ত বলেন, পুকুরের মালিক পুরসভায় টাকা জমা দিয়ে সেটি পরিষ্কার করছিলেন। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারব না। 
বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, বরানগরে আমি কোনো পুকুর ভরাট হতে দেব না। আমাদের দল ও সরকার তোলাবাজি নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক দল, ধর্ম, বর্ণ না দেখে তোলাবাজদের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ করবে। রাজীব মিশ্র স্বঘোষিত বিজেপি। তিনি গত পুর ভোটে বিজেপির প্রার্থীকে হারানোর চেষ্টা করেছিলেন। রাজীব মিশ্র বলেন, আমি ২০১৭ সাল থেকে বিজেপি করছি। ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দলের জেলা সহ সভাপতি ছিলাম। ওই সময় দলে সজল ঘোষ নামের কাউকে চিনতাম না। কী কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন, বলতে পারব না। ষড়যন্ত্র করেই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ