Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সম্পত্তি বিবাদের মীমাংসার নামে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী ও তাঁর স্ত্রীকে হুমকির অভিযোগ বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে

কাটোয়া শহরে তিনি ‘দাবাং’ নেত্রী হিসাবে পরিচিত। তৃণমূলের আমলে নানা দুর্নীতি নিয়ে তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে

সম্পত্তি বিবাদের মীমাংসার নামে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী ও তাঁর স্ত্রীকে হুমকির অভিযোগ বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া শহরে তিনি ‘দাবাং’ নেত্রী হিসাবে পরিচিত। তৃণমূলের আমলে নানা দুর্নীতি নিয়ে তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। এবার সেই বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধেই বৃদ্ধ দম্পতিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। সীমা বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের মীমাংসার নামে নানা ভাবে ওই দম্পতিকে শাসানোর অভিযোগ উঠেছে ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে। 
আতঙ্কিত বৃদ্ধ দম্পতি সীমা ভট্টাচার্যর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু ওই দম্পতির এক আত্মীয়র অভিযোগ, শাসকদলের নেত্রী বলে পুলিশ এখনও সীমার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেনি। 
বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসু বলেন, বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কাছে শুনেছি। দল এ ধরনের কাজ বরদাস্ত করে না। আমার কাছে দলীয় ভাবে অভিযোগ এলে বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানাব। 
কাটোয়া শহরের ঘোষহাট মাধাইতলার বাসিন্দা দিবাকর দত্ত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী। তাঁর শরীরে পেসমেকার বসানো রয়েছে। তিনি হাই সুগারে ভুগছেন। দিবাকরবাবুর ছোটো ভাই তাঁদের পৈতৃক বাড়ির বাঁটোয়ারা নিয়ে কাটোয়া আদালতে মামলা করেন। তাঁর ভাই মৃগী রোগী। গত ২৬ আগস্ট দিবাকরবাবু কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, গত ২৫ আগস্ট রাতে তাঁর ভাইয়ের প্ররোচনায় বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য পঞ্চাশ-ষাটজন লোক নিয়ে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তারপর মীমাংসার নামে তাঁদের চাপ দিতে থাকে। দিবাকর বার বার বলেন, এটা আদালতের বিষয়। আইনত যা সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই তিনি মেনে নেবেন। অভিযোগ, সীমা ভট্টাচার্য ও তাঁর অনুগামীরা তা মানতে চাননি। তারা দিবাকরবাবু ও তাঁর স্ত্রী সান্ত্বনা দত্তকে হুমকি দিতে থাকে। তাদের কথা না মানলে প্রাণ সংশয় হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাধা দিতে গেলে সান্ত্বনাদেবীকে ধাক্কা দেওয়া হয়। 
দিবাকর দত্ত বলেন, যেভাবে আমাদের বাড়িতে ওরা দাপাদাপি করেছেন তাতে আমার শরীর আরও খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ওরা বলেছিল, বিধায়কের অফিস থেকে আসছে। এই ঘটনায় মানসিক ভাবে আমরা বিপর্যস্ত। অনেকেই এসে আমাদের দেখে নেওয়ার, ভিটে ছাড়া করার হুমকি দিচ্ছে। সান্ত্বনাদেবী বলেন, এভাবে আমাদের বেঁচে থাকা দায় হবে। আমরা চাইছি আদালতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হোক। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হবে কেন। আমাদের ওরা বলছে দেওরকে টাকা দিয়ে বিবাদ মেটাতে। জোর করে আমাদের সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিষয়টি এখানেই থেমে নেই। সীমা ভট্টাচার্যর সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন ভাইরাল হয়েছে (সেই অডিওর সত্যতা ‘বর্তমান’ যাচাই করেনি)। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, একবার যদি আসতেন একটু কথা বলতাম। কাকার ব্যাপারে। ভালো কথা। মানবেন না মানবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। আমাদের অফিসে আসুন, আপনার কোনো অসুবিধা নেই। আমরা জোরজবরদস্তি করার লোক নই। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে বারে বারে সীমা ভট্টাচার্যকে ম্যাডাম বলে সম্বোধন করে বলতে শোনা যায়। বিষয়টি সম্পূর্ণ পারিবারিক ও আদালতে বিচারাধীন তাও স্মরণ করিয়ে দেন ওই ব্যক্তি। এর পরেই ওই ব্যক্তি পাল্টা বলেন, প্রশাসন বা আইনের বাইরে আমরা যেতে চাইছি না। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কেন রাজনীতি হবে? এই কথা শোনামাত্রই সীমা ভট্টাচার্যকে পাল্টা বলে শোনা যায় যে, আমাদের অফিসে আসতে আপনার অসুবিধা কোথায়? দেখুন পার্টির লোক সবাই ভালো নয় কিন্তু! 
এ ব্যাপারে সীমা ভট্টাচার্য বলেন, এসব মিথ্যা অভিযোগ। আমরা শুধু মীমাংসার জন্য গিয়েছিলাম। কাউকে হেনস্তা করিনি বা হুমকি দিইনি। 

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ