


সমীর সাহা, নবদ্বীপ: কপালে তিলক কেটে রামনামে কোনো আস্ফালন করা যাবে না চৈতন্যভূমে। রামনাম করতে হবে পরম ভক্তি ও বিনয়ের সঙ্গে। নবদ্বীপে ভোট প্রচারে এমনই ‘নরম’ হিন্দুত্বের উপর জোর দিয়েছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। তবে, কর্মীরা চাইলে আগে বলতে হবে, ‘জয় গৌর, জয় নিতাই।’ পরে ‘জয় শ্রীরাম’। সঙ্গে অবশ্যই জুড়তে হবে ‘জয় নবদ্বীপ ধামের জয়।’ তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নবদ্বীপ কেন্দ্রে এবার কৌশলগতভাবে প্রার্থী নির্বাচন করেছেন দিল্লির নেতারা। চৈতন্যপার্ষদ অদ্বৈত আচার্য প্রভুর পরিবারের সন্তান তথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদ্য প্রাক্তন নেতা শ্রুতিশেখর গোস্বামীর উপর ভরসা রেখেছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, নবদ্বীপ শ্রীচতন্যদেবের জন্মভূমি। তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারের প্রাণপুরুষ। তাঁর বুকে আশ্রয় দিয়েছিলেন মুচি, মেথর, মুসলিম সবাই। মহাপ্রভুর এই দর্শনের সঙ্গে আবেগ জড়িয়ে গোটা নবদ্বীপবাসীর। তাই, এখানে উগ্র হিন্দুত্বের তাস খেলতে চায় না বিজেপি। প্রার্থী শ্রুতিশেখরও বলছেন, ‘আমাদের নবদ্বীপে রাম আর গৌরে কোনো পার্থক্য নেই। তবে, অনুষ্ঠান কিংবা সভায় উচ্ছৃঙ্খলতা বরদাস্ত নয়। অন্য পক্ষের যাঁরা কার্যকর্তা রয়েছেন, তাঁদের প্রতি ভ্রাতৃসুলভ আচরণের নির্দেশ দিয়েছি।’
প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পর বিজেপির একাধিক কর্মিসভা হয়েছে। প্রতিটি সভায় গৌর, নিতাইয়ের নামে জনসংযোগ বাড়ানোর বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন নবদ্বীপের বিজেপি প্রার্থী সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। শ্রুতিশেখরও কর্মীদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, নবদ্বীপে বৈষ্ণব ভক্তিবাদ আন্দোলনের হাত ধরেই জনসংযোগ বাড়াতে হবে। তাঁর কথায়, ‘রামনবমীতে আমরা রামলালার আয়োজন করছি। আমাদের কনসেপ্ট হচ্ছে রামচন্দ্র এসেছেন নবদ্বীপ ধামে। ছোট্ট রামচন্দ্র। তাঁকে নিয়ে মহাপ্রভু পরিক্রমায় বেরিয়েছেন। সেই পরিক্রমা হবে পরম ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে। সনাতন শিক্ষায় মহাপ্রভু ভক্তদের চারটি ব্রত অবশ্য পালনীয় বলে নির্দেশ দিয়েছেন। সেগুলি হল, রামনবমী, নৃসিংহ চতুর্দশী, বামন দ্বাদশী ও জন্মাষ্টমী। এই চার ব্রত পালন করে ভগবান বিষ্ণুর চার অবতারের ভজনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কাজেই গৌর, নিতাই ও রাম—এঁদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।’
নবদ্বীপ বিধানসভার মিডিয়া প্রমুখ আনন্দ দাস বলেছেন, ‘নবদ্বীপে আমাদের মূল স্লোগান ‘জয় নিতাই, জয় গৌর।’ আমাদের দলীয় স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ তো থাকবেই। কিন্তু নবদ্বীপের ক্ষেত্রে আগে বলতে হবে ‘জয় নিতাই, জয় গৌর’। উগ্রতা বা হটকারিতা নয়। আমরা শান্তির বার্তা দিতে চাইছি। যিনি প্রার্থী হয়েছেন তিনি ঐতিহ্যবাহী গোঁসাই পরিবারের সন্তান। আমরা নবদ্বীপবাসী এমন একজন প্রার্থীই চেয়েছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘নবদ্বীপের ক্ষেত্রে আমরা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনি কমিটি গড়েছি। সবাইকে এটাই বলা হয়েছে, ‘জয় নিতাই, জয় গৌরের’ পাশাপাশি নবদ্বীপ ধাম কি জয়’ বলতে হবে।