


রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: রবিবার ভোট ঘোষণা করেছে কমিশন। ছব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তৎপরতার সঙ্গে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করে দিয়েছে বিজেপি। অথচ, মেদিনীপুর শহরে বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে দাঁড়ালে কে বলবে ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে! বেলা তখন একটা। ব্যস্ত গোটা মেদিনীপুর শহর। তার মধ্যে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে বিজেপির পার্টি অফিস। খাঁ খাঁ করছে বিশাল বাড়ির চতুর্দিক। ছাড়পোছ করার কর্মীরও দেখা নেই কোথাও। এখান থেকে হেঁটে আট মিনিটের পথ তৃণমূলের পার্টি অফিস। সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ঠাসা ভিড় বাইরে। ভিতরে বুথভিত্তিক প্রস্তুতি বৈঠকে ব্যস্ত নেতারা।
ভোট ঘোষণার পরদিন যুযুধান দুই রাজনৈতিক দলের এই ভিন্ন ছবি দেখে জোর চর্চা চলছে শহরে। রাজনৈতিক মহলেও বিস্তর জল্পনা চলছে। শহরবাসীর একাংশের মতে, বুথস্তরের সংগঠন শক্তিশালী না হলে প্রচার পর্বেই মুখ থুবড়ে পড়তে হয় যে কোনও রাজনৈতিক দলকে। সেটাই সম্ভবত হয়েছে বিজেপির ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খড়্গপুর-মেদিনীপুর একদা দিলীপ ঘোষের গড় ছিল। সেখানে এখন পড়শি জেলার এক ‘দাদা’ ছড়ি ঘোরাচ্ছেন। ফলে, দুই ‘দাদা’র অনুগামীদের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। সেই কারণেই মেদিনীপুরে পরিবর্তন যাত্রা থেকে শুরু করে বিজেপির নানা কর্মসূচি কার্যত ফ্লপ হয়েছে। পার্টি অফিসে তালাও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। দলের সাধারণ নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ক্ষোভে হোক, হতাশায় হোক দলীয় আসার গরজ দেখাচ্ছেন না। তবে, সোমবার বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকায় খড়্গপুর সদর দিলীপ ঘোষের নাম দেখে দলের একটা বড় অংশই উচ্ছ্বসিত। তাঁরাই এবার দলীয় অফিস খোলা থেকে শুরু করে নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করছে রাজনীতির কারবারিরা।
তবে, পার্টি অফিসে তালাবন্ধের নেপথ্যে দলের অন্তর্কলহের অভিযোগ মানতে নারাজ মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির নেতা অরূপ দাস। তাঁর কথায়, ‘আমাদের দলীয় কার্যালয়ে প্রচুর মানুষ আসেন। এখন হয়তো কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কর্মী বৈঠক করছেন। আমরা তৃণমূলকে জবাব দিতে তৈরি। ওদের পার্টি অফিসে ভিড় হওয়ার অন্য কারণ রয়েছে। চাওয়া-পাওয়ার বিষয় রয়েছে।’
বিজেপির দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৯৮ সালের আগে মেদিনীপুর শহরের সিপাইবাজার এলাকায় একটি ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে জেলা কার্যালয় তৈরি হয়েছিল। পরে সুভাষনগর এলাকায় বড় কার্যালয় গড়ে ওঠে। প্রতিটি নির্বাচনে এই কার্যালয় থেকেই লড়াইয়ে নেমেছিল বিজেপি। সেই সময় ভোট ঘোষণার পর থেকেই কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে মুখর থাকত কার্যালয় চত্বর। কিন্তু, এদিন দুপুর একটা নাগাদ সেখানে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি—কার্যালয় জনশূন্য, বাইরে ঝুলছে তালা। গেটের সামনে একটি দৈনিক খবরের কাগজ পড়ে থাকলেও, সেটি তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ই পাননি নেতারা।
বিজেপির এক নেতার দাবি, কয়েক মাস আগে নতুন জেলা কমিটি ঘোষণার পর দিলীপ ঘনিষ্ঠ নেতারা খড়্গপুর শহরে আলাদা একটি দলীয় কার্যালয় তৈরি করেছেন। ফলে, দুই জায়গায় কার্যালয় হওয়ায় কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া কর্মীরা কার্যালয়ে কম আসেন। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি মহম্মদ রফিক বলেন, ‘নির্বাচনের পর বিজেপি দলটাই থাকবে কি না সন্দেহ। তাই হয়তো আগে থেকেই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র