


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাম ভোটের উপরই ভরসা করছে বিজেপি। ২০১৯ এ নজরকাড়া ফলাফলের পিছনে বামেদের বড় অবদান থাকার কথা গেরুয়া শিবিরের নেতারাও আড়ালে আবডালে স্বীকার করেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও তারা লালপার্টির ভোটকেই ‘ঢাল’ করতে চাইছে। সেই কারণে প্রতিটি বুথে তারা ‘পঞ্চপাণ্ডব’ নিয়োগ করেছে। পুরো চেন সিস্টেম পরিচালনা করছে তারা। পঞ্চপাণ্ডব হল প্রতিটি বুথের পাঁচজন বিজেপি নেতা। তাঁদের মাথার উপরে রয়েছেন ভিন রাজ্য থেকে আসা নেতা। ওই নেতাকে আবার পরিচালনা করছে দিল্লি থেকে।
পঞ্চপাণ্ডবদের কাজ হল প্রতিটি বুথের সিপিএম বা বাম ভোটারদের চিহ্নিত করা। নাম ধরে ধরে তারা তালিকা তৈরি করেছে। তাঁদের ফোন নম্বরও জোগাড় করেছে। সেই তালিকা ভিন রাজ্য থেকে আসা নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। পরে উত্তরপ্রদেশ বা বিহার থেকে আসা নেতারা পঞ্চপাণ্ডবদের বাম ভোটারদের ফোন করার নির্দেশ দিচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা ভোটারদের বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে। কীভাবে মগজ ধোলাই করতে হবে সেটা ভিন রাজ্যের নেতারাই শিখিয়ে দিচ্ছেন।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বহিরাগত নেতারা পঞ্চপাণ্ডবদের রুটিন বেঁধে দিয়েছেন। প্রতিদিন সকাল ৭টার আগে তাদের ঘুম থেকে ওঠার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৭টার মধ্যে পঞ্চপাণ্ডবদের কাছে বহিরাগত নেতাদের ফোন পৌঁছে যাচ্ছে। কোন কোন ভোটারের বাড়িতে যেতে হবে সেটা তাঁরা তালিকা দেখে নির্দেশ দিচ্ছেন। বাম ভোটাররা তাঁদের কী বলছেন সেই প্রতিক্রিয়াও নথিভুক্ত করে বহিরাগত নেতাদের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে। বিজেপি’র কাছে পুরো বিষয়টি ‘ম্যাপিং’ হিসাবে পরিচিত। বামদের পাশাপাশি শাসক দলের সমর্থকদেরও কাছে তারা পৌঁছে যাচ্ছে। বিজেপি ভোটারদেরও তাঁরা আলাদাভাবে চিহ্নিত করছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, অত্যন্ত ‘সায়েন্টিফিক’ পদ্ধতিতে গেরুয়া শিবির এবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বুথস্তরে প্রচারের উপর তারা জোর দিয়েছে। পঞ্চপাণ্ডবরা ভোটারদের কাছে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দিকগুলি তুলে ধরছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী করবে সেই প্রচার তাঁরা করছেন। তাঁরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করছেন। ভোটের দিন তাঁদের আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। আসা বা যাওয়ার খরচ পেতে অসুবিধা হবে না বলে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এবিষয়ে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, বিজেপি যে কৌশলই নিক না কেন, তা কাজে আসবে না। বিজেপি একটা ভাঁওতাবাজ দল সেটা সকলেই জানে। সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সদস্য হারাধন ঘোষ বলেন, যাঁরা ভুল বুঝে অন্য দলকে সমর্থন করেছিল তাঁরা আবার ফিরে এসেছেন। বামেরা জানে, বিজেপি কতটা সাংঘাতিক দল। বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, বিজেপি কী কৌশলে প্রচার করবে, সেটা নিশ্চয় অন্য কোনো দলকে ঠিক করে দিতে হবে না।