Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বিজয় দিবসের ভাষণে মুজিবুর ও ভারতের প্রসঙ্গ এড়ালেন ইউনুস

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত। সেই সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমান ডাক দিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম।’ তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হল মুক্তিযুদ্ধ।

বিজয় দিবসের ভাষণে মুজিবুর ও ভারতের প্রসঙ্গ এড়ালেন ইউনুস
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
নয়াদিল্লি ও ঢাকা: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কয়েক লক্ষ মানুষের জমায়েত। সেই সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমান ডাক দিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম।’ তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হল মুক্তিযুদ্ধ। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি সেনা। জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও ভারতের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও অবকাশই নেই। অথচ সোমবার বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে ভাষণে একবারের জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম মুখেই আনলেন না বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। শুধু তাই নয়, শোনা গেল না ভারতের অবদানের কথাও। বরং, তাঁর ভাষণজুড়ে রইল শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা আর বর্তমান সরকারের গুণকীর্তন। এদিন আওয়ামি লিগের কর্মীদের বিজয় দিবস পালনে বাধা দিতে কড়া প্রহরার ব্যবস্থা করেছিল ইউনুস সরকার।  এরইমধ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আওয়ামি লিগের আট নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিস।
Advertisement
তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এদিন বিজয় দিবসেও তাঁকে ব্রাত্যই করে রাখা হল। এদিনের ভাষণে ইউনুস দাবি করেন, এবারের বিজয় দিবসের তাত্পর্য আলাদা। কারণ এবার বিশ্বের সবচেয়ে স্বৈরাচারী সরকারকে অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশের জনগণ। এদিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানান ইউনুস। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পূর্ব তিমোরের প্রেসিডেন্ট জোস রামোস-হোর্তা। বিজয় দিবসে প্রতি বছর ঢাকায় সেনাবাহিনীর তরফে প্যারেডের আয়োজন করা হতো। এবার সেই প্যারেডও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ইউনুসের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যস্ত থাকায় প্যারেড বাতিল করা হয়েছে।
এদিন দুপুরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছিলেন আটজন আওয়ামি লিগ নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে এক প্রাক্তন সাংসদ। ফুলের তোড়ায় আওয়ামি লিগ লেখা দেখেই তাদের বাধা দেয় পুলিস। এরপর ওই আটজনকে পুলিস আটক করে। স্থানীয় আশুলিয়া থানা ধৃতদের বিরুদ্ধে নাশকতার চেষ্টার অভিযোগ করেছে।  অন্যদিকে, পিরোজপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর ও পড়ুয়াদের উপর এদিন হামলা হয়। তাঁরা শহিদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানানোর পরেই এই ঘটনা ঘটে। ব্যানার ও ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধুর নাম থাকার জন্যই হামলা হয় বলে অভিযোগ।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ