নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: ফ্লাইওভারের উপর নতুন রংয়ের প্রলেপ। পুজোয় সেজে উঠেছে শহর। কিন্তু, বুধবার দুপুরে চতুর্থীর সামান্য বৃষ্টিতেই ঘটল বিপত্তি। চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে চাকা ‘স্কিড’ করে আছাড় খেয়ে পড়লেন পর পর তিনজন বাইক চালক। বড় বিপত্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তাঁরা। সেই ভিডিয়ো ক্যামেরাবন্দিও হয়েছেন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরই শুরু হয়েছে নতুন রং নিয়ে বির্তক। অনেকে বলছেন, ফ্লাইওভারের উপর রং করায় বৃষ্টির পর রাস্তা তৈলাক্ত হয়ে গিয়েছিল। তার জেরেই দুর্ঘটনা। যদিও পুলিশের দাবি, নয়া রংয়র জন্য দুর্ঘটনা ঘটেনি। তাহলে শুধু তিনজন কেন! বাইক চালক সবাই আছাড় খেয়ে পড়তেন। এটি নিছকই দুর্ঘটনা। তবে, সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে খোঁজখবর শুরু করেছে সরকার। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে দুর্ঘটনা নিয়ে, না জেনে কোনো উত্তর দেব না।’ পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, ওই রং কী প্রকৃতির, তা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পুজোর আগে চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে এবং গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারে রং করা হয়েছে। রামধনু রং। নতুন সরকারের প্রথম পুজো। সেই পুজোর আগেই সাজিয়ে তোলা হয়েছে ফ্লাইওভারের রাস্তা। অনেকে ছবি তুলে আপলোডও করেছেন। কেউ তুলেছেন সেলফি। এতদিন তা নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। কিন্তু, বুধবার বেলা গড়াতেই ছড়াল বিতর্ক। দুর্ঘটনার একটি ভিডিয়ো ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ভিডিয়োটি কোনও একটি চারচাকা গাড়ির ড্যাশক্যাম থেকে তোলা। ওই গাড়ির ড্যাশক্যামেরা অন ছিল। গাড়িটি ইএম বাইপাস থেকে সল্টলেক বাইপাসের দিকে যাচ্ছিল। সামনে ছিল চারটি বাইক। ড্যাশক্যামের সময় অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে এদিন বেলা ১২টা ২৮ মিনিটে।
চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারে উঠেই প্রথমে ডানদিকে হালকা টার্নিং আছে। তারপর বাঁদিকে টার্ন। একটি বাইক বাঁদিকে টার্ন নিতে গিয়েই পিছলে যায়। টাল সামলাতে না পেরে পিছনের বাইকটিও স্কিড করে। তিন নম্বর বাইকটি কোনোক্রমে টাল সামলে বেরিয়ে যায়। তবে, তার পিছনের অর্থাৎ, চার নম্বর বাইকটিও আছাড় খেয়ে পড়ে। তারপরই দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে শুরু হয় ময়নাতদন্ত। অনেকের অভিযোগ, নতুন রং। বৃষ্টি পড়তেই টার্নিংয়ের মুখে বাইকের চাকা পিছলে গিয়েছে। দুর্ঘটনার ভাইরাল ভিডিয়ো নিমেষে ছড়িয়ে যায় শহরের বিভিন্ন বাইকার কমিউনিটিতেও। তাঁদের অনেকে দাবি, পিচের রাস্তায় রং করা হলে, বাইকের চাকার সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয়। প্যানিক ব্রেক প্রয়োগ করা হলে চাকা পিছলে যায়। বৃষ্টি পড়লে তা আরও বিপজ্জনক।
বিধাননগর কমিশনারেটের এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, রংয়ের জন্য দুর্ঘটনা হয়নি। ম্যাটফিনিশ রং করা হয়েছে, তা তৈলাক্ত নয়। তাই বৃষ্টিতে পিচ্ছিল হওয়ার কথা নয়। যদি তাই হত, তাহলে শুধু তিনটি কেন, আরও প্রচুর বাইকের চাকা স্কিড করত। বাইক চালকরা কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। কারও চোট মারাত্মক নয়।



