সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বর্ষা শুরুর আগেই ফের নতুন করে ভাগীরথীর ভাঙন শুরু হয়েছে নবদ্বীপের মহিশুড়া পঞ্চায়েত এলাকায়। এবারের ভাঙনের কোপে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মহিশুড়া দক্ষিণপাড়া থেকে জাহ্নবী পাড়া খড়ের মাঠে যাওয়ার পিচ রাস্তা যা সম্প্রতি, পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্পে তৈরি হয়েছিল। ইতিমধ্যেই নদী ভাঙনে রাস্তার বেশকিছু জায়গা ভেঙে গিয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমের কিছু এলাকায় ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাক্টর নিয়ে যাওয়ার ফলে ধস নেমেছে। নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, বিগত সরকারের অনেক আগেই ওই এলাকায় ভাঙন রোধের কাজ করা উচিত ছিল। তাহলে এভাবে ভাঙনের মুখে পড়তে হত না। যাই হোক দ্রুততার সঙ্গে এই ভাঙন প্রতিরোধের কাজ যাতে হয় সেটা আমরা দেখছি। আমি ঘটনাস্থলে যাব।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীর ধারে বোল্ডার ফেলে মেরামত না হলে রাস্তার অধিকাংশই ভেঙে পড়বে। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে তা চলতে থাকলে অতি দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হবে। ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হবে খড়ের মাঠ, জাহ্নবী পাড়া, সাহেবনগর, ঘোষপাড়া, গদখালি সহ বিস্তীর্ণ এলাকার গ্রামবাসীদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বারবার জানানো সত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। যদিও প্রশাসনের তরফে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে বেশকিছু জায়গায় বালির বস্তা ফেলা হয়েছিল। সেগুলি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। প্রতিদিন একটু একটু করে রাস্তা ভেঙে পড়ায় মহিশুড়া পঞ্চায়েতের নদী তীরবর্তী ওই সব বাসিন্দারা চিন্তিত।
জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের উদ্যোগে নবদ্বীপের মহিশুড়া পঞ্চায়েত এলাকায় পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্পে এই পিচ রাস্তা তৈরি হয়েছিল জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে। গদখালি মৌজার মহিশুরা পঞ্চায়েতের নদী তীরবর্তী খড়ের মাঠ সাহেবনগর, ঘোষপাড়া, মহিশুড়া, মাঝেরচড়া এলাকার অনেক কৃষক তাঁদের জমির ফসল এই বাইপাস রাস্তা দিয়ে নিয়ে যান নবদ্বীপ সহ পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট, নিমতলা বাজারে।
মহিশুড়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা আহিরন বিবি বলেন, এই রাস্তা দিয়ে মহিশুড়া, ঘোষ পাড়া, জাহ্নবী পাড়া, গদখালি সহ আশপাশের গ্রামের চাষিরা জমির ফসল নিয়ে যেতেন। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে সবাই আতঙ্কে রয়েছি। মহিশুড়া উত্তরপাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধা সালেমা বিবি, রেকসোনা বিবিরা জানান, অনেক আগে থেকেই এখানে ভাঙন চলছিল। এক সপ্তাহ ধরে বেশি ভাঙন শুরু হয়েছে।
মহিশুড়া পঞ্চায়েতের উত্তর ঘোষপাড়ার বাসিন্দা গৌতম ঘোষ বলেন, মহিশুড়া মাঠে আমার চার বিঘা জমি আছে। চিন্তা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের সদস্যা তথা মহিশুড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তৃণমূলের আরজুবানু খাতুন বলেন, মহিশুড়ার এই রাস্তার পাশে অনেক আগে থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। সেচ দপ্তরকে একাধিক বার বলা হয়েছিল ভাগীরথীর ভাঙন রোধ করে যদি এই রাস্তা রক্ষা করা যায়। রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে গিয়ে ভাগীরথীর জল বাড়লে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি জমি সহ নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হবে।