থিম নয়, রাজধানীর সব কালীবাড়িতেই  সাবেকিয়ানায় মিশে উৎসবের আমেজ
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: থিমের লড়াই নেই। চোখধাঁধানো চাকচিক্যও নেই। দিল্লির সব কালীবাড়ির পুজোয় সাবেকিয়ানাতেই রয়েছে উৎসবের আমেজ। নিষ্ঠাভরে পুজো, পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানো কিংবা দশমীর সিঁদুর খেলার আনন্দেই বরাবরের মতো এবছরও উৎসব উদযাপনের আয়োজন করছে দিল্লির কালীবাড়িগুলি। দিল্লি-এনসিআরের প্রবাসী বাঙালিরা যতই হাল আমলের পুজোর জাঁকজমকে মজে যান না কেন, অন্তত একবার কালীবাড়ির পুজোগুলিতে না এলে তাঁদের শারদোৎসব সম্পূর্ণ হয় না।

Advertisement

দক্ষিণ দিল্লি কালীবাড়ির পুজোর সঙ্গে আমৃত্যু জড়িয়ে ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এখানে প্রথমে তিনি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর অবশ্য স্বাভাবিক কারণেই সেই দায়িত্বে থাকতে পারেননি। পরবর্তী ক্ষেত্রে প্রণববাবুকে প্যাট্রন-ইন-চিফ করে দক্ষিণ দিল্লি কালীবাড়ি কর্তৃপক্ষ। তাঁর মৃত্যুর পরও ওই পদ আর কাউকে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ দিল্লি কালীবাড়ি পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাস। এবারে তাঁদের পুজো ৫৯তম বছরে পা দিয়েছে। সুব্রতবাবু বলেন, ‘সাবেকি মতে পুজো। তবে পুজো মণ্ডপে একটুকরো গ্রামবাংলা ধরতে চেয়েছি আমরা। থ্রি-ডি ইমেজে থাকবে কলকাতার একাধিক ছবি।’ 
বরাবরের মতো সাবেকি মতেই হচ্ছে সফদরজং মাতৃমন্দিরের পুজো। মাতৃমন্দিরের সহ সভাপতি গীতশ্রী মৈত্র বলেন, ‘এবছর পটচিত্রে সাজছে মণ্ডপ। মেদিনীপুর থেকে এসেছেন শিল্পীরা। সাবেকিয়ানার মধ্যেই কিছুটা অন্যভাবে ধরার চেষ্টা হয়েছে এবারের পুজোকে।’ দিল্লির মিন্টো রোড কালীবাড়ি এবং নিউদিল্লি কালীবাড়ির পুজো দেশের রাজধানী শহরের অন্যতম প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে পড়ে।
মিন্টো রোড কালীবাড়ি পুজোর এবার ৮৭তম বছর। কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দুশেখর বসাক বলেন, ‘বন্দেমাতরমের ১৫০তম বছর। তা মাথায় রেখে এবার পুজোর গেট তৈরি হচ্ছে। নতুনত্ব বলতে এটুকুই। বাকি সাবেকিয়ানায় আর কোনো ব্যতিক্রম নেই।’ দর্শনার্থীদের অবশ্য গন্তব্যের মধ্যে পড়ে নিউদিল্লি কালীবাড়ির পুজোও। পুজো উপলক্ষ্যে মেলাও বসে। হস্তশিল্প সামগ্রীর রকমারি সম্ভার প্রবাসী বাঙালিদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। সেক্টর-১২’র দ্বারকা কালীবাড়ির প্রধান আকর্ষণ এখানকার মন্দির। কারণ স্থায়ীভাবে এই মন্দির তৈরি হয়েছে প্রায় দক্ষিণেশ্বরের মায়ের মন্দিরের আদলে। দ্বারকা কালীবাড়ির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্তকুমার ঘোষ বললেন, ‘গ্রামবাংলার আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। পাট, খড়, মাটি সহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে পুজো মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের পরিবেশ।’ একটুকরো গ্রামবাংলা উঠে আসছে দিল্লি সংলগ্ন নয়ডা কালীবাড়ির পুজোতেও। নয়ডা বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ডাকের সাজের প্রতিমা এবং কুঁড়ে ঘর—দু’টিই বোধহয় বাঙালিয়ানার যথার্থ কম্বিনেশন। পাশাপাশি ভোগ খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আকর্ষণ তো আছেই। সব দর্শনার্থীর অবশ্য গন্তব্য।’