


দীর্ঘ দু’শতক ধরে বাংলা ছিল সুলতানি শাসনে। এরপর পাঠান, আফগান ও ঈশা খাঁর নেতৃত্বাধীন বারো ভুঁইয়ার আমলে অস্থির সময়ের সাক্ষী ছিল এই ভূখণ্ড। এমন সময়েই মুঘল সিংহাসনে বসেন আকবর (১৫৫৬-১৬০৫)। বালক বয়সে সিংহাসনে বসলেও বাংলার বিশৃঙ্খলার দিকটি তাঁর নজর এড়ায়নি। বাংলা থেকে কর সংগ্রহ কমতেই থাকে। খোঁজখবর নিয়ে সম্রাট জানতে পারলেন, রাজনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি চান্দ্র মাসভিত্তিক সাল গণনাই কর সংগ্রহের খামতির কারণ। দেখা যায়, কখনও কখনও কোনও বছরে ১০-১১ দিন কম হচ্ছে। ফলে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে সময়সূচি প্রতি বছরই বদলে যায়। তাতে কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। অথচ ফসল নির্দিষ্ট সময়েই উৎপন্ন হয়। সমস্যা সমাধানে নতুন করে মাসগুলিকে সাজানো হতে থাকে। প্রায় ২৯ বছর লেগে যায় বর্ষপঞ্জি সংস্কারে। অবশেষে ১৫৮৪ সালের ২১ মার্চ চালু হয় নতুন ক্যালেন্ডার। প্রাথমিকভাবে কর সংগ্রহের সুবিধার জন্য চালু হলেও পরে তা অন্য কাজেও ব্যবহার হতে থাকে। চাষাবাদ, খাজনা পরিশোধ, সারা বছরের হিসেব-নিকেশের মতো কাজকর্ম ওই বর্ষপঞ্জি অনুসারেই চলত। আকবরের সময় থেকে এই বর্ষ গণনা বাহাদুর শাহ জাফরের সময় পর্যন্ত মানা হতো। পরে ব্রিটিশ শাসনে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মান্যতা পায়। উল্লেখ্য, আকবরের প্রবর্তিত এই ব্যবস্থা ছিল ইসলামি ও হিন্দু ক্যালেন্ডারের সমন্বয়। প্রথমে আকবরের পঞ্জিকার নাম ছিল ‘তারিখ-এ-এলাহি’। মাসগুলির নাম ছিল আর্বাদিন, কার্দিন, বিসুয়া, তীর ইত্যাদি। কখন যে মাসের এই নামগুলি বদলে যায়, তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারে না। মনে করা হয়, বিভিন্ন নক্ষত্র থেকে বাংলা বারো মাসের নামকরণ করা হয়েছে। যেমন বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ, পুষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফাল্গুনী থেকে ফাল্গুন ও চিত্রা থেকে চৈত্র। বিশাখা নক্ষত্র অনুসারে বৈশাখ বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস। সেই হিসেবে বৈশাখের প্রথমদিন থেকে নববর্ষ ধরা হয়।