শহরে অস্ত্র কারখানার হদিশ,  বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার বেঙ্গল এসটিএফের
  • ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বন্দর এলাকায় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারখানার খোঁজ পেল বেঙ্গল এসটিএফ। নাদিয়াল এলাকার আয়ুবনগরে একটি বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে হানা দিয়ে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র এবং সেগুলি তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করল তারা। যদিও অস্ত্র কারখানার মালিকের খোঁজ মেলেনি। পুলিশ আসার খবর পেয়েই সে এলাকা ছাড়ে। অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছেন এসটিএফের তদন্তকারীরা। এখানে তৈরি হওয়া অস্ত্র বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হত বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

কিছুদিন আগে এসটিএফ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জেরা করে জানা যায়, কলকাতা থেকে বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। ওইসব আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে সেভেন এম এম ও দেশি পিস্তল। এই অস্ত্র কারখানাটি চলছে নাদিয়াল থানা এলাকার আয়ুবনগরে। কে বা কারা এই বেআইনি কারখানা চালাচ্ছে, তার খোঁজখবর শুরু করেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, স্থানীয় এক যুবক বাড়ি ভাড়া নিয়ে এটি চালাচ্ছে। কারখানার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে আয়ুবনগরে হানা দেয় এসটিএফের টিম। তখন সেখানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র তৈরি হচ্ছিল। পুলিশ আসার খবর পেয়েই কারখানার পিছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায় কর্মীরা। বেপাত্তা হয়ে যায় মালিকও। এসটিএফের টিম ওই কারখানায় তল্লাশি চালিয়ে দু’টি সেভেন এম এম পিস্তল, দুটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিভিন্ন বোরের কার্তুজ পায়। সেখান থেকে অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে এসটিএফ। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানা করার জন্য এই বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তার আড়ালে চলছিল বেআইনি অস্ত্র তৈরির কাজ। বাইরে লেদ কারখানা থেকে সব কিছু কাটিং করে এখানে নিয়ে আসা হয়। তারপর ফিটিংস ও ফিনিশিং টাচ দেওয়া হয় এই কারখানায়। কোন লেদ কারখানায় কাটিং করা হত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, এখানে তৈরি হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র বিভিন্ন জেলার দুষ্কৃতীদের কাছে যায়। যে এই অস্ত্র কারখানা চালায়, তাকে চিহ্নিত করেছে এসটিএফ। তার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে তল্লাশি। নাদিয়াল থানা এলাকায় এতদিন ধরে অস্ত্র কারখানা চললেও স্থানীয় থানা কেন খবর পেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের এসটিএফের আর্মস সেকশনের অফিসারদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।