প্রীতেশ বসু, কলকাতা: কেন্দ্রের বরাদ্দ করা টাকা খরচে ব্যর্থ রাজ্যের নবনির্বাচিত ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারও! চলতি আর্থিক বছরে ‘স্বচ্ছ ভারত’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যকে যে অর্থ বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্রের মোদি সরকার, এখনও পর্যন্ত সেই টাকার ৯ শতাংশেরও কম খরচ হয়েছে। এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ। আর মে মাসের ৯ তারিখ থেকে পথ চলা শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। অর্থাৎ বিজেপি সরকার প্রায় চার মাস সময় পেলেও এই খাতে যথেষ্ট টাকা খরচ করতে পারেনি। কেন্দ্রের প্রকাশিত রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়েছে এই ‘ব্যর্থতা’।
রাজ্যের পূর্বতন সরকার নানা কারণে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যুক্ত হয়নি। ক্ষমতায় এসেই সেই সমস্ত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে রাজ্যে আগে থেকে চলা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে জোর দিতে হবে বলে প্রতিটি দপ্তরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ‘স্বচ্ছ ভারত’-এর মতো স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম’-এর টাকাই আশানুরূপ খরচ হয়নি রাজ্যে।
কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্পে ‘এসএনএ স্পর্শ’ বা সরাসরি আরবিআই থেকে টাকা ছাড়ার নিয়ম বছর দেড়েক আগে চালু করেছে কেন্দ্র। সেই সময় রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গই প্রথম এই শর্ত পূরণ করে ‘স্বচ্ছ ভারত’ প্রকল্পের প্রাপ্য আদায় করেছিল। সেই সূত্রে চলতি অর্থবর্ষের শুরুতেও এই প্রকল্পের বরাদ্দ পেতে কোনো সমস্যা হয়নি বলে মনে করছেন নবান্নের কর্তারা। এ বছরের জন্য বরাদ্দ হয় ৫৯৫ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। জেলা ধরে ধরে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়। সব থেকে বেশি টাকা পেয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা (৬৫.৮৪ কোটি টাকা)। পশ্চিম মেদিনীপুরের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫৫.২৬ কোটি টাকা। এছাড়া, হুগলি ৫৩.৮৪ কোটি, মালদহ ৪৪.৭৬ কোটি, কোচবিহার ৪১.০৪ কোটি টাকা পায়। সব থেকে কম বরাদ্দ হয়েছে কালিম্পংয়ের (৭.৯১ কোটি টাকা) জন্য। কিন্তু প্রকল্প সংক্রান্ত রিপোর্টে সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৫২.৩২ কোটির ‘ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডার’ বা টাকা ছাড়ার অনুমোদনপত্র জমা পড়েছে। যা মোট বরাদ্দের ৯ শতাংশেরও কম। কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, আগস্ট মাসের শেষে জেলাগুলি সব মিলিয়ে ৫৪৩.৫৭ কোটি টাকা খরচ করতে পারেনি।
রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসার পরেও কেন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা খরচ করা গেল না, তা নিয়ে নবান্নের শীর্ষমহল যথেষ্ট ক্ষুব্ধ বলেই জানা যাচ্ছে। তবে অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, অর্থবর্ষের প্রথম দু’মাস বিধানসভা নির্বাচনের কারণে কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজই সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়নি। সরকার গঠনের পর কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন বিষয়টিতে আরও একটু গুরুত্ব দিলে হয়তো এমন পরিস্থিতি হত না। এই অবস্থায় শীঘ্রই জেলা আধিকারিকদের নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তারা এই প্রকল্পের পর্যালোচনা বৈঠক করতে চলেছেন বলে খবর।