শান্তনু দত্ত, কলকাতা; ফুলবাগান মোড় পেরিয়ে বেলেঘাটার দিকে এগলেই কানে আসবে লোহা কাটার শব্দ। তৈরি হচ্ছে এক বিরাট রকেট। ঘাড় উঁচু করে ভালো করে দেখলে আপনার মনে পড়তে পারে পোখরান ২-এর কথা। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের এই স্থানেই ভারতের দ্বিতীয় দফার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাই এবার উঠে আসছে বেলেঘাটার ৩৩ পল্লির থিম ভাবনায়। সামনের রকেটটি পেরিয়ে মূল মণ্ডপে প্রবেশ করলে চোখে পড়বে অগণিত স্কেচ। পাশাপাশি থাকছে অটলবিহারী বাজপেয়ীর মূর্তিও। দেবী মহিষাসুরমর্দিনী এখানে ভারতমাতার প্রতীক। ২৬ তম বর্ষে এই ভাবনার কারণ ব্যাখ্যা করলেন শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্য, সেনাবাহিনীকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে খানিক এগলেই পৌঁছে যাবেন বেলেঘাটা শুঁড়া স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোতে। ৮৫তম বর্ষে তাদের থিম ‘ঐতিহ্যের উন্মেষ’। শিল্পী গৌরাঙ্গ দাস জানালেন, জমিদার বাড়ির পুজো থেকে বারোয়ারি পুজো, সাবেকি থেকে থিম— দুর্গাপুজোর নানা বিবর্তন ফুটে উঠেছে এই মণ্ডপে। কথায় বলে, ‘রথ টানলে দুর্গা আসে’। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই প্যান্ডেলে ঢোকার মুখেই দেখতে পাবেন একটি রথ। এগলে চোখে পড়বে পালকি। আরেকদিকে রাজবাড়ি। সেখানেই রাজরাজেশ্বরী রূপে পূজিতা দেবী। আর কিছুক্ষণ হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন বেলেঘাটা সন্ধানী ক্লাবের পুজোতে। ৫৭ তম বর্ষে তাদের থিম ‘দেবায়তন’। স্বর্গলোকের আদলে তৈরি হচ্ছে মাতৃমণ্ডপ।
থিমের লড়াইয়ে সামিল কাঁকুড়গাছি যুবকবৃন্দও। ৯৭তম বর্ষে তাদের থিম ‘কারিগরের কারিগরি: শূন্য থেকে শংকরী’। দেবী মহামায়াই জগতের সৃষ্টিকর্ত্রী। সেই ভাবনাকে মাথায় রেখেই এ বছরের থিম সাজানো হয়েছে। টিন দিয়ে তৈরি হয়েছে মণ্ডপের ঢোকার অংশ। ভিতরে ঢুকলেই দেখা যাবে পাটকাঠির কাজ। পাশাপাশি উঠে আসছে তাঁতশিল্পের কথাও। অন্যদিকে, ৯০তম বর্ষে কাঁকুড়গাছি মিতালি সংঘের থিম ‘শতবর্ষের পথে শতবর্ষের সাথে’। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হচ্ছে এই মণ্ডপে। দেখা যাবে মহানায়কের সিনেমার পোস্টার। হারানো সুর থেকে শাপমোচন, চাওয়া পাওয়া থেকে সপ্তপদী— উত্তমকুমারের একাধিক ছবির পোস্টার দিয়েই সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। এরপর খানিক হাঁটলেই পড়বে কাঁকুড়গাছি স্বপ্নার বাগান। এ বছর তাদের থিম ‘অরণ্যের অনন্যা’। বনাঞ্চল রক্ষার বার্তা দিচ্ছে এই মণ্ডপ। প্যান্ডেলে ঢুকলেই নজর কাড়বে লোহার তৈরি বড়ো বড়ো পাতার অবয়ব। অরণ্যের মধ্যেই দেবীর অবস্থান।



