সংবাদদাতা, লালবাগ: জিয়াগঞ্জের বেগমগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গাপুজো সাবেকিয়ানায় স্বতন্ত্র। চলতি বছরে এই পুজো ৬৯ বছরে পদাপর্ণ করল। বেগমগঞ্জ সরস্বতীতলা মন্দিরে মা প্রাচীন রীতিনীতি, নিয়ম-নিষ্ঠা ও উপাচারের মধ্য দিয়ে পূজিতা হন। পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সরস্বতীতলা মন্দিরে পুজো শুরুর আগে এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে বারোয়ারিতলায় উমার আরাধনা শুরু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে মতবিরোধ হওয়ায় বাদল ভট্টাচার্য, জানকিনাথ ধর, পিন্টু ভট্টাচার্য, রামচরণ দাস, চাঁদু খাঁ, সুমন্ত ধর, কালীচরণ চৌধুরীদের হাত ধরে সরস্বতীতলা মন্দিরে পুজো শুরু হয়।
বারোয়ারি পুজো হলেও মায়ের ভোগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সপ্তমীতে সাতরকম ভাজা, সাত পোয়া চালের অন্ন, তরকারি, পায়েস, রকমারি মিষ্টি দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। অষ্টমীতে আটরকম ভাজা, আট পোয়া চাল-ডালের খিচুড়ি, পাঁচরকম তরকারি ভোগে দেওয়া। অষ্টমী পুজোয় কুমড়ো বলি দেওয়া হয়। সন্ধিপুজোয় পোলাও এবং সমস্ত রকম নতুন সবজি দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। নবমীতে ন’রকম ভাজা, ন’পোয়া চালের অন্ন, কচুশাক এবং লাউ ও চাল কুমড়োর তরকারি দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। দশমীতে জিয়াগঞ্জ সদরঘাটে মাকে বিদায় জানানো হয়। পুজো কমিটির সভাপতি নিমাই ধর বলেন, থিমের পুজোর রমরমার মধ্যেও বেগমগঞ্জ সরস্বতীতলার মাকে দেখতে জিয়াগঞ্জের পাশাপাশি লালবাগ মহকুমার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং এলাকার প্রতিটি বাড়িতে মায়ের ভোগ বিতরণ করা হয়। সম্পাদক কাঞ্চন তেওয়ারি বলেন, শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় চিন্ময়ী মা মৃন্ময়ী হয়ে ওঠেন। সন্ধিপুজোয় মায়ের রূপ দর্শন করতে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে।



