Bartaman Logo
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘জেলের জন্য তৈরি থাকুন’, শেষ দেখে ছাড়ব, জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি ককরোচদের

৪৮ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ শেষ! ‘ককরোচ’দের চাপের মুখেও ইস্তফা দিলেন না দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

‘জেলের জন্য তৈরি থাকুন’, শেষ দেখে ছাড়ব, জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি ককরোচদের
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ৪৮ ঘণ্টার ‘ডেডলাইন’ শেষ! ‘ককরোচ’দের চাপের মুখেও ইস্তফা দিলেন না দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শুক্রবারই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শনিবার জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে আগামী ২ অক্টোবর, গান্ধীজয়ন্তীতে দেশজুড়ে শুরু হবে আন্দোলন। তাতে কাজ হয়নি। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চরম হুমকি দিলেন অভিজিৎ দিপকে—‘জেলে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকুন! আমরা শেষ দেখে ছাড়ব। ২ অক্টোবর ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে ‘মার্ক’ করে রাখুন।’ নিট কেলেঙ্কারির সময় ঠিক একই ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তাঁকে শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করতেও হয়। জ্ঞানেশ কুমারেরও কি সেই পরিণতি হবে? উঠছে প্রশ্ন। এই ইস্যুতে এদিন মোদি সরকারের উপরও চাপ বাড়িয়েছে ‘ককরোচ’রা। ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রশ্ন তুলেছে, ‘কোন জেল ভালো হবে?’ যার অর্থ একটাই, জ্ঞানেশ কুমারকে জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আর কোনো বিকল্প নেই।

Advertisement

সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে অভিযোগ করা হয় যে, দুই নির্বাচন কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে এসআইআর নিয়ে যাবতীয় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তারপর থেকেই তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব দেশের বিরোধী দলগুলি। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে যুব কংগ্রেস থেকে এসএফআই-ডিওয়াইএফআই, নাগরিক সমাজ। কিন্তু সবথেকে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ককরোচ ও জেন জি’দের এভাবে সোচ্চার হওয়ায়। সিজেপি জানিয়ে দিয়েছে, গান্ধীজয়ন্তীতে মুম্বই থেকে শুরু হবে আন্দোলন। কেন মুম্বই? সেই ব্যাখ্যাও এদিন দিয়েছেন দিপকে। তিনি নিজে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, ‘কেলেঙ্কারির শুরুটা হয়েছিল মহারাষ্ট্র থেকে... ২০২৪ সালে (লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের মধ্যবর্তী সময়ে), আচমকা ৩৯ হাজার ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবং এখন এসআইআরের পর প্রায় ২ কোটি ৭ লক্ষ নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ সেই কারণেই জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করার আন্দোলনের ভরকেন্দ্র হিসাবে মুম্বইকে বেছে নেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই দেশের বাণিজ্যনগরীতে ‘ককরোচ’দের প্রস্তুতি তুঙ্গে। সিজেপির দিল্লিতে থাকা প্রতিনিধিরা যন্তরমন্তর এবং সংলগ্ন চত্বরের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা শুরু করেছেন। আবারও দেশের রাজধানী শহরের একটি বড়ো অংশ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন। বিশ্বস্ত সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, প্রশাসনের একাংশ অবিলম্বে ‘ককরোচ’ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে, যাতে সরকারের অন্তত কিছুটা মুখরক্ষা হয়!
গত ২৪ ঘণ্টায় বিজেপির দল ভাঙানোর খেলা নিয়েও তোপ দেগেছেন দিপকে। শিবসেনা, এনসিপি এবং এনসিপিআই ইত্যাদির উদাহরণও দিয়েছেন। তারপরেই এদিন সিজেপির আন্দোলনের ডাককে সমর্থন জানিয়েছেন উদ্ধব থ্যাকারের পুত্র তথা শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য থ্যাকারে। তিনি বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দিলে ‘ভোটচুরি’র বিরুদ্ধে ২ অক্টোবর থেকে রাস্তায় নামবে মুম্বইবাসী। আদিত্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে দিপকে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘দলমত নির্বিশেষে সব ভারতীয়কে এসআইআরের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হতে হবে।’ এই ইস্যুতে আগামী ৪ অক্টোবর একযোগে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্তও নিয়েছে উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনা (ইউবিটি) ও তাঁর ভাই রাজ থ্যাকারের এমএনএস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ