নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে তলিয়ে গেলেন মা। সাত বছরের শিশুপুত্রকে উদ্ধার করা গেলেও শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিখোঁজ বছর ৩৪-এর প্রীতি দত্তর সন্ধান মেলেনি। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে ৩৬ জন পর্যটকের একটি দল শুক্রবার ট্রাভেল সংস্থার গাড়িতে ঝাড়গ্রামে আসে। দু’টি গাড়িতে ভাগ হয়ে তাঁরা শনিবার বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে যান। জলপ্রপাতের পাথরের কাছে বসেছিলেন পর্যটকরা। তখন খেলতে খেলতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র প্রিয়ঙ্কর দত্ত খাদে পড়ে যায়। ছেলেকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দেন মা প্রীতিদেবী। বাবা রাজদীপ দত্তও ঝাপান। কিছুক্ষণ পরে জলপ্রপাতের কিছুটা দূরে তিনি ছেলেকে উদ্ধার করতে পারলেও স্ত্রী স্রোতে তলিয়ে যান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিনপুর থানার পুলিশ ও বিনপুর-২ ব্লক প্রশাসনের অফিসার ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও ভিড় জমান। খরস্রোতা জলের মধ্যে তল্লাশি চালানো হয়। তবে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারে সমস্যা হয়। ওই গৃহবধূ কোনো পাথরের খাঁজে আটকে গিয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ট্রাভেল সংস্থার কর্ণধার সন্দীপন চক্রবর্তী বলেন, শুক্রবার ৩৬ জনের একটি দল নিয়ে ঝাড়গ্রামে এসেছিলাম। শনিবার দু’টি গাড়িতে ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে যাই। সেখানে পাথরের উপর বসে থাকার সময়ই আচমকা দুর্ঘটনা ঘটে যায়। প্রিয়ঙ্করের বাবা বারুইপুরের হরিহরপুর পঞ্চায়েতের বেনিয়াডাঙা এলাকার বাসিন্দা রাজদীপবাবু বলেন, মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ঘটে গেল। কী করব কিছুই বুঝে পাচ্ছি না।