Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীগঞ্জে ১৩০০ পরিবারের মাথার ওপর ছাদের ব্যবস্থা মমতার, খুশি চরের বাসিন্দারাও

রাজ্য সরকারের অন্যতম সামাজিক প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-র সুফল পৌঁছেছে নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ ব্লকের এক হাজারেরও বেশি গৃহহীন মানুষের কাছে।

কালীগঞ্জে ১৩০০ পরিবারের মাথার ওপর ছাদের ব্যবস্থা মমতার, খুশি চরের বাসিন্দারাও
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: রাজ্য সরকারের অন্যতম সামাজিক প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’-র সুফল পৌঁছেছে নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ ব্লকের এক হাজারেরও বেশি গৃহহীন মানুষের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। প্রাপ্ত অর্থে জোরকদমে শুরু হয়েছে বাড়ি নির্মাণের কাজ। কালীগঞ্জ বিধানসভায় আসন্ন উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই প্রকল্প নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাজনৈতিক চর্চায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোটের লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে গৃহহীনদের কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কারণে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বিজেপিকে।

Advertisement

তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ‌‌‌ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কারণে বহু মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে উপনির্বাচনে আমাদের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, কালীগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত ব্লকে বহু মানুষ এতদিন কেন্দ্রীয় ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’-র উপভোক্তা হতে পারেননি। একাধিকবার সমীক্ষা হলেও যোগ্যদের অর্থপ্রদান আটকে রেখেছিল কেন্দ্র সরকার। তাই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার সরব হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য স্তরে বিকল্প গৃহনির্মাণ প্রকল্প চালু করেন— ‘বাংলার বাড়ি’। এতে করে বহু গৃহহীন পরিবার মাথার উপর স্থায়ী ছাদ পেয়েছেন। এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের দুই কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর শেষের দিকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কালীগঞ্জ ব্লকে প্রথম পর্যায়ে ১৩০০ যোগ্য উপভোক্তা টাকা পেয়ে বিগত কয়েক মাসে বাড়ি তৈরির প্রথম ধাপের কাজ শেষ করে ফেলেছেন। সেইমতো দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে শুরু করেছে প্রশাসন। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ৯৭০ জন দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন। সম্প্রতি আরও ৩৩০ জন উপভোক্তার জন্য ১ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী দিনে বাকি যোগ্য উপভোক্তারাও ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের টাকা পাবেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে দেখা যাচ্ছে, নদী তীরবর্তী পঞ্চায়েত, যেমন গোবরা, জুড়ানপুর, রাজারামপুর ও ঘোড়াই এলাকার উপভোক্তার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এই এলাকাগুলি হিন্দুপ্রবণ ও বিজেপির প্রভাব রয়েছে। তবু সেখানে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে বড় সংখ্যক মানুষ রাজ্য সরকারের সাহায্যে গৃহনির্মাণের সুযোগ পেয়েছেন।
নির্বাচনের ঠিক আগে এই প্রকল্পে বাস্তব সাফল্য শাসকদলের জন্য এক প্রকার রাজনৈতিক শক্তি জোগাচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাংলার বাড়ি প্রকল্প শুধুমাত্র সামাজিক উন্নয়নের দৃষ্টান্তই নয়, বরং এটি এখন কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক উপাদান হিসেবে উঠে এসেছে। 
কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালী খাতুন বলেন, বিজেপি সরকারের বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছিল বহু গৃহহীন মানুষকে। মানুষ ভোট বাক্সে তার জবাব দেবেন। আমাদের ব্লকে অধিকাংশরাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, তৃণমূলের নেতারা আবাস যোজনার টাকা লুট করে বহু বছর ধরে রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বঞ্চনা করে আসছে। মানুষ সেটা জানে। তাই যতই টাকা দিক, ভোটবাক্সে তার কোনও প্রভাব পড়বে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ