সংবাদদাতা, বারুইপুর ও বনগাঁ: ক্যানিংয়ে গ্রেপ্তার করা হল এক বাংলাদেশিকে। বাগদায় ধরা পড়ল জাল আধার কার্ড তৈরির পান্ডা। দু’টি ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ১৬ বছর আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ক্যানিংয়ে এসে থাকতে শুরু করেন আকবর মোল্লা। অনুপ্রবেশের অভিযোগে মঙ্গলবার ক্যানিং থানার পুলিস গ্রেপ্তার করল তাকে। ধৃতের কাছে দুই দেশের ভোটার কার্ড সহ একাধিক জমির দলিল, বাংলাদেশের প্রচুর নথি উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তির উপর সন্দেহ ছিল মধুখালির বাসিন্দাদের। ক্যানিং থানায় খবর দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই ভিত্তিতে মঙ্গলবার পুলিস তল্লাশি চালিয়ে আকবরকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিস সূত্রে খবর, মধুখালিতে জায়গা কিনে সেখানে বাড়ি তৈরি করে বাস করছিল আকবর। এক মহিলাও ছিলেন সঙ্গে। তিনি পলাতক। বহু লোকের আনাগোনা ছিল বাড়িতে। পুলিস জানতে পেরেছে, টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর লোক এনে এখানে কাজ পাইয়ে দিয়েছে। এদিকে, জাল আধার কার্ড তৈরি চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করল বাগদা থানার পুলিস। ধৃতের নাম রাজকুমার বাড়ুই ওরফে রাজু। মঙ্গলবার রাতে বাণেশ্বরপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে বুধবার বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। ধৃতের কাছ থেকে ৬টি ভুয়ো আধার কার্ড উদ্ধার হয়েছে। সূত্রের দাবি, বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত রাজু মোটা টাকার বিনিময়ে ভুয়ো আধার কার্ড চোরাপথে আসা বাংলাদেশিদের বিক্রি করত।
বাগদার বাণেশ্বরপুর বাজারে ধৃতের প্রসাধনী দ্রব্যের দোকান রয়েছে। গত তিন বছর আগে সেখানে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন রাজকুমার। অভিযোগ, অনলাইনের দোকানের আড়ালে ভুয়ো আধার কার্ড বানানোর কাজ করত সে। মঙ্গলবার ওই দোকানে হানা দেয় বাগদা থানার পুলিস। তল্লাশি চালিয়ে দোকানে থাকা কম্পিউটারে একাধিক আধার কার্ডের নমুনা এবং ৬টি ভুয়ো আধার কার্ড উদ্ধার হয়।
বনগাঁ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন , ‘এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত আছে তাদের খুঁজে বের করা হোক। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাইছি।’ বনগাঁ জেলা যুব মোর্চার সভাপতি রাজীব রায় বলেন, ‘বিজেপি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। অভিযুক্ত আমাদের দলের সমর্থক কি না, তা খতিয়ে দেখব। তবে অন্যায় করলে শাস্তি পেতেই হবে।’