Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিষেধাজ্ঞাই সার, মুর্শিদাবাদজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলছে দেদার নাড়া পোড়ানো

গমের জমির নাড়া পোড়ানোয় মুর্শিদাবাদে দাউদাউ করে বিস্তীর্ণ মাঠ জ্বলছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গমের জমির নাড়া পোড়চ্ছেন চাষিরা

নিষেধাজ্ঞাই সার, মুর্শিদাবাদজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় চলছে দেদার নাড়া পোড়ানো
  • ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: গমের জমির নাড়া পোড়ানোয় মুর্শিদাবাদে দাউদাউ করে বিস্তীর্ণ মাঠ জ্বলছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গমের জমির নাড়া পোড়চ্ছেন চাষিরা। বহরমপুর, হরিহরপাড়া, ডোমকল, সাগরদিঘি, বেলডাঙা সহ জেলার অধিকাংশ ব্লকের গমের জমিতে নাড়া পোড়ানো চলছে। এর ফলে একদিকে যেমন জমির উর্বরতা কমছে পাশাপাশ বায়ুদূষণ বাড়ছে। এই কর্মকান্ডে বহু চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ নাড়া পোড়ানো জমির আগুন ছড়াচ্ছে পাশের জমিতে। তারফলে পাশের জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, নাড়া পোড়ানো ঠেকানোর দায়িত্ব জেলা কৃষি দপ্তরের। কৃষি দপ্তরের উদাসিনতার কারনেই চাষিরা কার্যত বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। জেলা কৃষি দপ্তরের এক আদিকারিক বলেন, চাষিদের সতর্ক করা হয়েছে। নাড়া পোড়াতে বারন করে কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। কাজ না হওয়ায় কৃষি দপ্তর কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলেই জানা গিয়েছে।

Advertisement

কয়েক বছর পর এবার মুর্শিদাবাদে ব্যাপক গম চাষ হয়েছে। এখন অধিকাংশ চাষি হারভেস্টার মেশিন দিয়েই গম ঝাড়ায় করেন। মেশিনে জমিতেই গম ঝাড়ার কাজ হওয়ায় গাছের একাংশ জমিতেই থেকে যায়। সেই অবশিষ্টাংশ চাষিরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে জমি সাফ করেন। এভাবে গমের জমিতে আগুন ধরানোর ফলে সেই আগুন ছড়িয়ে ডোমকলে বহু জমির গম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এছাড়া জমিতে আগুন ধরানোর বিস্তীর্ণ মাঠ দাউদাউ করে জ্বলছে। এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে। হাওয়ায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে। ধোঁয়া আর উত্তাপে অতিষ্ট হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, চাষিদের এই কর্মকান্ড রোখা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশাসনের উদ্যোগ নজরে আসছে না। ডোমকলে গমের জমিতে নাড়া পোড়ানোর ফলে মোস্তাকিম শেখের দেড় বিঘা জমির গম নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দমকল না পৌঁছলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ত। মোস্তাকিম শেখ বলেন, আমার গম তুলতে দেরি হয়েছিল। পাশের জমি মালিক নিজের সুবিধা করতে গিয়ে আমার ক্ষতি করেছে। এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে? গমের জমিতে নাড়া পোড়াচ্ছিলেন হরিহরপাড়া ব্লকের মাঠপাড়ার কুদ্দুস শেখ। তিনি বলেন, আমরা জানি নাড়া পোড়ানোর ফলে যে ছাই তৈরি হয় তাতে জমির উর্বরতা বাড়ে। তাই মেশিনে কাটার পর জমিতে আগুন ধরায়। প্রকৃতপক্ষে নাড়া পোড়ানোয় উপকারি কীটপতঙ্গের মৃত্যু হয়।  বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, মেশিনে গম ঝাড়ানোর পর গাছের প্রায় এক দেড় ফুট অংশ জমিতেই থেকে যায়। পরবর্তী চাষের জন্য  জমি তৈরি করতে অনেক খরচ করতে হয়। খরচ সাশ্রয় করতেই নাড়া পোড়ানোর পন্থা নেওয়া হয়। পরিবেশের উপর প্রভাব পড়লে নিশ্চয় মানতে হবে।  চলছে নাড়া পোড়া। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ