Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পেটে ঢুকে গেল বাঁশ! জটিল অপারেশনে কিশোরের প্রাণরক্ষা জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে

খেলতে গিয়ে কিশোরের পেটে ঢুকে গেল সূঁচালো বাঁশ। লিভার, কিডনি ফুটো করে ওই বাঁশ গিয়ে বিঁধল ইনফেরিওর ভেনাক্যাভায়!

পেটে ঢুকে গেল বাঁশ! জটিল অপারেশনে কিশোরের প্রাণরক্ষা জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ২৩:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: খেলতে গিয়ে কিশোরের পেটে ঢুকে গেল সূঁচালো বাঁশ। লিভার, কিডনি ফুটো করে ওই বাঁশ গিয়ে বিঁধল ইনফেরিওর ভেনাক্যাভায়! এমন সঙ্কটজনক রোগীকে না ফিরিয়ে তার প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপালেন জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের চিকিৎসকরা। চরম ঝুঁকি নিয়ে চলল অপারেশন। আপাতত ওই কিশোর স্থিতিশীল, রয়েছে সিসিইউতে। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খেলতে খেলতে ১৪ বছরের অমিত সাহার পেটে ঢুকে যায় বাঁশ। ওই বাঁশ দিয়ে উইকেট বানিয়ে খেলছিল কয়েকজন মিলে। সেটি কোনওভাবে ময়নাগুড়ির পেটকাটি এলাকার বাসিন্দা অমিতের পেটের ডানদিক দিকে ঢুকে যায়। লিভার, ডানদিকের কিডনি ফুটো করে সাড়ে তিন ফুট লম্বা সূঁচালো ওই বাঁশ পৌঁছে যায় অমিতের দেহের ইনফেরিওর ভেনাক্যাভা অর্থাৎ শরীরের সবচেয়ে বড় শিরাগুলির মধ্যে অন্যতম শিরায়। স্বাভাবিকভাবে শরীরের ভিতর শুরু হয় মারাত্মক রক্তক্ষরণ।

পরিবারের লোকজন যখন ওই কিশোরকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে নিয়ে আসেন, তখন তার হিমোগ্লোবিন ৬.৬, ব্লাড প্রেশার, পালস কিছুই ঠিক নেই। এই পরিস্থিতিতে রোগীকে রেফার করা সম্ভব নয় বুঝে চরম ঝুঁকি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের চিকিৎসকরা। 

ডাঃ আশিসকুমার সাহার নেতৃত্বে দশজনের টিম দুঘন্টারও বেশি সময় ধরে অপারেশন করে ওই কিশোরের শরীরে বিঁধে থাকা সূঁচালো বাঁশ বের করতে সক্ষম হন। রাত ৯টা থেকে প্রায় ১১টা পর্যন্ত চলে অপারেশন। বর্তমানে রোগী জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। 

জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডাঃ আশিসকুমার সাহা বলেন, “ছেলেটির রক্তের গ্রুপও নেগেটিভ। ওই গ্রুপের রক্ত পাওয়া দুষ্কর। বিষয়টি জানামাত্র এমএসভিপি কল্যাণ খাঁ নিজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এক ইউনিট রক্ত হাতে নিয়ে আমরা অপারেশন শুরু করি। ছেলেটির শরীরের ভিতরে প্রায় চার ইঞ্চি বাঁশ ঢুকেছিল। আর কিছুক্ষণ দেরি হলে প্রাণ সংশয় হতে পারত।” মেডিক্যালের এমএসভিপি কল্যাণ খাঁ বলেন, “এ ধরনের একটি অপারেশন করতে পারে আমরা সত্যি খুব খুশি। আমাদের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যেকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ওই কিশোরের প্রাণ বাঁচাতে। খুবই ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করতে হয়েছে।”

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ