নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শতবর্ষের পুজোয় এবার প্রজন্মের মেলবন্ধনের অভিনব ভাবনা বালি দেওয়ানগাজির মিলেনিয়াম ক্লাবে। ১০০ বছরে পা দেওয়া এই পুজোর মূল ভাবনা ‘অমরত্বের শতবর্ষ’। পাশাপাশি এই পুজোকে এবার হাওড়া জেলার প্রথম ‘সনাতনী জেন-জি পুজো’ হিসাবে তুলে ধরছে ক্লাব। পুজোর ভাবনা থেকে পরিচালনা— বেশিরভাগ দায়িত্বই এবার তুলে দেওয়া হয়েছে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের হাতে।
‘শিকড়ে সনাতন, ভাবনায় জেন-জি’, এই বার্তাকে সামনে রেখে পুজোয় দেখা যাবে নতুন প্রজন্মের অন্যরকম অংশগ্রহণ। জেন-জি প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কেউ চণ্ডীপাঠ করবেন, কেউ ঢাক বাজাবেন, কেউ শঙ্খ বাজাবেন, আবার কারও কণ্ঠে শোনা যাবে উলুধ্বনি। সনাতন রীতি-নীতি ও সংস্কৃতির ধারাকে নতুন প্রজন্ম কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, মূলত সেই ভাবনাই ফুটিয়ে তোলা হবে গোটা আয়োজনে।এবারের মূল ভাবনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলা সংস্কৃতির দুই উজ্জ্বল নাম উত্তম কুমার ও সুকান্ত ভট্টাচার্যকে। ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া এই দুই স্রষ্টার জন্মশতবর্ষ এবার। একজন বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের অন্যতম মুখ, অন্যজন কবিতার মাধ্যমে ক্ষুধা, শ্রম, বৈষম্য, সংগ্রাম ও মানুষের স্বপ্নকে তুলে ধরেছেন। পুজো মণ্ডপে তাঁদের জীবন ও সৃষ্টির পাশাপাশি দেখানো হবে ১৯২৬ থেকে ২০২৬— একশো বছরের পরিবর্তনের সময়রেখা। বাঁশের সরল কাঠামো, ছবি, লেখা, আলোকসজ্জা ও বিভিন্ন সময়ের দলিলের মাধ্যমে তৈরি হবে সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। সেই পথ পেরিয়েই দর্শক পৌঁছাবেন মা দুর্গার কাছে— যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহমান সনাতনী সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক।ক্লাবের সেক্রেটারি সুদীপ্ত অধিকারীর কথায়, ‘জেন-জি কিছু পারে না, এই ধারণা ঠিক নয়। সনাতনী ঐতিহ্যকে আগামী দিনে বয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এই প্রজন্মেরই রয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি গুরুজনদের সম্মান দেওয়ার মানসিকতাও তাদের রয়েছে।’ নিজস্ব চিত্র