আদি রাম মন্দিরের আদলে সেজে উঠেছে বলাকা ক্লাবের পুজোমণ্ডপ, ভারতনগরের ভাবনায় ‘আদিকথা’
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: থিমের পুজোয় প্রতিবছরই নতুন চমক তুলে ধরেন শিলিগুড়ির পুজো উদ্যোক্তারা। কখনও আধুনিক স্থাপত্য, কখনও দেশ-বিদেশের বিখ্যাত নিদর্শন, আবার কখনও লোকসংস্কৃতি। তবে এবার দুর্গাপুজোয় শহরের একাধিক মণ্ডপে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘আদি’ বা প্রাচীন ঐতিহ্য। ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রাচীন সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে মণ্ডপসজ্জার মধ্য দিয়ে তুলে ধরার এই প্রয়াসে দর্শনার্থীদের সামনে খুলে যাচ্ছে অতীতের দরজা। কোথাও আদি রাম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ, কোথাও আবার প্রাগৈতিহাসিক যুগের আবহে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের দর্শন-ঐতিহ্যের এই টানই এবার শিলিগুড়ির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। সব মিলিয়ে এবার আদি সংস্কৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন ইতিহাসের মেলবন্ধনে নজর কাড়ছে একাধিক পুজো মণ্ডপ। শক্তিগড় লাগোয়া সুকান্তনগরের বলাকা স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় এবার মূল আকর্ষণ আদি রাম মন্দির। শক্তিগড় লাগোয়া এই পুজো মণ্ডপে প্রাচীন রাম মন্দিরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের আদলে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা হয়েছে। মণ্ডপে প্রবেশের মুখেই রয়েছে বিশাল রামের কাটআউট। ক্লাবের সদস্য সুশান্ত পাল বলেন, আদি রাম মন্দিরের ভিতরে থাকা বিভিন্ন স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের আদলেই মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। এদিকে, শক্তিগড় স্কুল মাঠে উজ্জ্বল সংঘের পুজোতে নতুন রাম মন্দিরকে ঘিরে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। ফলে একই এলাকায় দর্শনার্থীরা প্রাচীন রাম মন্দিরের আদল ও তার নতুন রূপের মধ্যে এক অন্যরকম তুলনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ভারতনগরের তরুণ তীর্থ ক্লাবের পুজোয় ‘আদিকথা’ ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শৈব ঐতিহ্য। খোলা মাঠের মাঝে বিশাল শিব ঠাকুরের আদলে তৈরি মণ্ডপ দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করছে। মণ্ডপের ভিতরে প্রাগৈতিহাসিক যুগের বিভিন্ন দৃশ্যপটের পাশাপাশি তুলে ধরা হয়েছে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মাহাত্ম্য। তারকেশ্বর সহ বিভিন্ন স্থানের পরিচিত শিব ঠাকুরের আদলেও থাকছে এই আয়োজনে। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে থাকা শিল্পী রাজু সূত্রধরের কথায়, প্রাচীন যুগের নানা আচার ও পরিবেশের আবহে মা দুর্গাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে বারোটি শিবলিঙ্গ দর্শনের সুযোগ। সব মিলিয়ে এবার শিলিগুড়ির পুজোয় শুধু চোখধাঁধানো সাজ নয়, অতীতের শিকড় খুঁজে দেখারও আমন্ত্রণ। আদি স্থাপত্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও প্রাচীন সভ্যতার নানা অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে ইতিহাসকে নতুন করে তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।

Advertisement