Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুটিং করতে এসেছিলেন বচ্চন, কাজল, কালিকাপুর রাজবাড়ি এখন পর্যটকদের নজরে

আউশগ্রামের জঙ্গলঘেরা কালিকাপুর রাজবাড়ি। প্রতি বছর শীতের মরশুমে বহু মানুষ রাজবাড়ি দেখার জন্য ভিড় জমান। এবারেও শীত পড়তেই কালিকাপুর রাজবাড়িতে মানুষের ঢল নেমেছিল।

শুটিং করতে এসেছিলেন বচ্চন, কাজল, কালিকাপুর রাজবাড়ি এখন পর্যটকদের নজরে
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ পাল, মানকর: আউশগ্রামের জঙ্গলঘেরা কালিকাপুর রাজবাড়ি। প্রতি বছর শীতের মরশুমে বহু মানুষ রাজবাড়ি দেখার জন্য ভিড় জমান। এবারেও শীত পড়তেই কালিকাপুর রাজবাড়িতে মানুষের ঢল নেমেছিল। এখনও নিয়মিত ভিড় হচ্ছে সেখানে। স্থানীয়রা জানালেন, ছুটির দিনে ভিড় অন্যদিনের থেকে অনেকটাই বেড়ে যায়। পর্যটকরা বলছেন, একাধিক বাংলা সিনেমার শুটিং হয়েছে এই রাজবাড়িতে। শুটিং স্পট দেখতেই এসেছি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় চারশো বছর আগে পরমানন্দ রায় ছিলেন বর্ধমান রাজার মন্ত্রী। তাঁর কাজে খুশি হয়ে রাজা আউশগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জামিদারিত্ব প্রদান করেন পরমানন্দকে। পরমানন্দ কালিকাপুরে বসতি স্থাপন করেন। সাত পুত্র সন্তানের জন্য সাতটি প্রাসাদ গড়েন তিনি। প্রাসাদের মাঝে গড়ে তোলেন দুর্গা দালান। সাত ভাই যেহেতু একসঙ্গে মা দুর্গার আরাধনা করতেন, তাই পুজোটি সাত ভাইয়ের পুজো বলেও এলাকায় খ্যাত হয়। পরে এটিই সবার কাছে পরিচিতি পায় কালিকাপুর রাজবাড়ি বলে। বর্তমানে রায় পরিবারের বংশধররা অনেকেই কর্মসূত্রে বাইরে রয়েছেন।

রাজবাড়ি দেখতে আসা কলকাতার বাসিন্দা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এখানে মৃণাল সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ, অপর্ণা সেন সহ বহু পরিচালক শুটিং করেছেন। অমিতাভ বচ্চন, কাজল সহ অনেক অভিনেতা, অভিনেত্রীরা এখানে এসেছেন। এখন রাজমহিমা অস্তমিত। তবে বিশালাকার দুর্গাদালান, শৈল্পিক নকশা ও স্থাপত্য যেন অতীত যুগের মহিমা চোখের সামনে ভাসিয়ে তোলে। অন্য এক পর্যটক সুশান্ত হালদার বলেন, আমরা আটজন এসেছি। বহুরূপী সিনেমা দেখে কালিকাপুর রাজবাড়ির কথা জানতে পারি। মানকরে ব্ল্যাক ডায়মন্ড এক্সপ্রেসে নেমে প্রথমে লবণধার আলপনা গ্রাম দেখলাম। তারপর কালিকাপুর এসেছি। খুব ভালো লাগছে। তবে বাকি জমিদার বাড়ির পরিত্যক্ত এলাকাটিও সুন্দরভাবে সাজালে পর্যটকরা আরও উৎসাহিত হবেন। এই রাজবাড়িতে হোম-স্টের ব্যবস্থা নেই। এখানে রাতে থাকার ব্যবস্থা করলে পর্যটকদের আরও ভিড় হবে।

এলাকার বাসিন্দা তাপস ঘোষ, রঞ্জিত ঘোষরা বলেন, ইউক্যালিপটাস, শাল-সেগুন, মহুয়া, হরীতকী, দেবদারুর সবুজ বনে অনেকে আসেন পিকনিক করতে। দূরদূরান্তের মানুষ এখানে এসে উপভোগ করেন বনের শান্ত পরিবেশ। তাঁরা জানান, কালিকাপুর রাজবাড়ি ঘুরতে এসে অনেকেই মাচান, দেউল, শ্যামরূপা মন্দির, বনকাটি রথের মন্দির, জয়দেব কেন্দুলী সব একসঙ্গেই ঘুরতে যান। ইতিহাসের দিক থেকে দেউল ও শ্যামরূপা মন্দিরের গুরুত্ব রয়েছে। বছরভর এখন পর্যটকরা এই স্থানগুলিতে আসছেন। শীতের মরশুম ছাড়াও ছুটি পেলেই বহু মানুষ আসছেন ঐতিহাসিক স্থানগুলি দেখার জন্য। তাতে এলাকার অর্থনীতিও কিছুটা চাঙ্গা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ