চিনার গাছে শরতের হাওয়া, উমা আরাধনায় কাশ্মীরের বাঙালিরাও
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: বাটামে পেরেক ঠোকার শব্দ নেই। কুমোর পাড়ার খড়-মাটির গন্ধ, উঠোনে শিউলির বিছানা, কাশের দোলা, মহালয়া নিয়ে এই আড়ম্বর আয়োজন—কোনো কিছুই নেই। তবুও পার্বত্য উপত্যকায় শরৎ এসেছে। কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে সোনালি ও গাঢ় লাল রঙের চিনার গাছ যেন আকাশের নীচে চাঁদোয়া টাঙিয়েছে। পাথুরে উঁচু-নীচু রাস্তা দিয়ে কৈলাস থেকে সেদিকেই পাড়ি দিয়েছেন উমা। হিংসা, জঙ্গি হামলা, গোলা-বারুদের চেনা গন্ধ পেরিয়ে চারদিকে এখন পুজো পুজো গন্ধ। বাংলা থেকে বহুদূরে এবারও মাতৃ আরাধনায় মেতে উঠছে কাশ্মীরের বাঙালিরা।

Advertisement

২০২৪ সালে শ্রীনগরে প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়। নেপথ্যে বাঙালি স্বর্ণশিল্পী বৃন্দ। ঢাকের বাদ্যির সঙ্গে সংস্কৃতে মন্ত্রোচ্চারণ। পাঁচদিন ধরে সমস্ত নিয়ম মেনে সাড়ম্বরে চলে পুজো। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বাঙালি, স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক সবাই অংশ নিয়েছিলেন সেই পুজোয়। ২০২৫ সালেও পুজোর পর বিজয়া দশমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল।
কলকাতা তথা বাংলার মতো জাঁকজমক না থাকলেও ছোট্ট পুজোটির বিশেষ কিছু দিক রয়েছে। জন্মভূমি থেকে দূরে থেকেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তা দেয় এই পুজো। বছরে একটিবার পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠে। নিজেদের শিকড়ে ফেরে। বাইরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমও এই পুজো। একথা বলতে বলতে নিজের শৈশবে ফিরে গিয়েছিলেন শ্রীনগরের বাঙালি সংগঠনের সদস্য সন্দীপ মেহতা। একই কথা বলছিলেন শ্রীনগরে গত আটবছর ধরে স্বর্ণকার হিসেবে কর্মরত রাজীব দাসও।
বাঙালির পুজোয় প্রতিবছর উপস্থিত হন স্থানীয় বাসিন্দা মুদস্সর ভাট। তাঁর বক্তব্য, ‘দুর্গাপুজোর মাধ্যমে আমরা একে অন্যের ভিন্ন সংস্কৃতিকে আরও গভীরে জানতে পারি। প্রতিবার পুজোয় যাই। ভোগ খাই। এক আলাদা অনুভূতি।’ পর্যটকদের মধ্যেও উন্মাদনার শেষ নেই। ধুপ-ধুনোর গন্ধ, চণ্ডীপাঠ, মায়ের আরাধনা মিলিয়ে দেয় কাল-সীমানার গণ্ডি। একসুতোয় বেঁধে দেয় কাশফুল আর চিনারের সৌন্দর্য্যকে।  ফাইল চিত্র