তেল আভিভ: দুবাই থেকে ইজরায়েল পাড়ি দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান। যাত্রা শুরুর আড়াই ঘণ্টা পরেই হঠাৎই বিমান থেকে পাঠানো হয় আপৎকালীন বার্তা-স্কোয়াক ৭৭০০ কোড। ততক্ষণে হুহু করে নীচে নামতে শুরু করেছে বিমান। ২ মিনিটে ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নেমে যায় বিমানটি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের বার্তা। এবার স্কোয়াক ৭৫০০ কোড। অর্থাৎ বিমানটি হাইজ্যাক করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয় ইজরায়েলের বিমান বাহিনী। সুরক্ষার জন্য রওনা দেয় যুদ্ধবিমান। বৈঠকে বসেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। কিছুক্ষণ পরেই অবশ্য ইউটার্ন নিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি। বুধবার সকালের এই ঘটনা ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, বিমানটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলতে চেয়েছিলেন এক পাইলট। যদিও অন্য পাইলট বাধা দেন। অভিযুক্ত সহকর্মীর সঙ্গে ককপিটেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট। তাঁর তৎপরতাতেই রক্ষা পায় যাত্রীরা।
জর্ডনের আকাশসীমার কাছে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে এমনই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। বিমানের ১৮০ জন যাত্রীর মধ্যে বেশিরভাগই ইজরায়েলি। নেতানিয়াহুর দেশের সংবাদমাধ্যম প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল, বিমানের দুই পাইলট ছিলেন রাশিয়া ও ইউক্রেনের নাগরিক। পরে অবশ্য জানা যায়, অভিযুক্ত কো-পাইলট ওমানের নাগরিক। তিনি জোর করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। সেসময় তাঁকে বাধা দেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট স্মিথ মুচ্ছার। তখনই তাঁকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে ওই ওমানি পাইলট। সেসময়ই পরপর বিপদ সংকেত পাঠান আক্রান্ত স্মিথ। ককপিট খুলে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।
মরিয়ম নামে এক যাত্রী ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ককপিটের দরজা খুলতেই ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত পাইলটকে দেখতে পাই। রক্তে ভেসে গিয়েছিল গোটা ককপিট। ক্রু ও বিমানের যাত্রীরা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। অন্য এক যাত্রী জানিয়েছেন, যাত্রীদের তৎপরতাতেই অভিযুক্ত ওমানি পাইলটকে নিরস্ত করা সম্ভব হয়। বিমানের মধ্যেই জখম পাইলটের প্রাথমিক চিকিৎসা করেন এক ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক। অভিযুক্ত পাইলটও জখম হয়। অন্যদিকে বিমানের যাত্রী এক পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নির্বিঘ্নে অবতরণ করান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োতে এক যাত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘বিমান হাইজ্যাকের চেষ্টা করা হচ্ছিল। আমরা জঙ্গিদের কাবু করে ফেলেছি। বিমান অবতরণ করছে। যদি কেউ আমাদের বার্তা পান, সাহায্য করুন।’ জানা গিয়েছে, আহত পাইলটদের হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এই ঘটনায় জঙ্গিযোগের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না ইজরায়েল। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে আইডিএফ, মোসাদ ও সিন বেট (ইজরায়েলের তদন্তকারী সংস্থা)। ইজরায়েলের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বেন-গভির সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন, ‘এক জঙ্গি বিমান ধ্বংস ও যাত্রীদের খুনের ষড়যন্ত্র করেছিল।’ ইজরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজেলেল স্মোরটিক বলেন, ‘যারা বিমান ধ্বংস করে ইজরায়েলি নাগরিকদের হত্যার চেষ্টা করেছে, তাদের শাস্তি পেতে হবে।’