Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দ্বিতীয় দফা ভোটের আগেও চন্দ্রনাথ রথকে খুনের চেষ্টা হয়, জেরায় তথ্য

দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটের আগে খুনের চেষ্টা হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। তখনও তাঁকে খতম করতে কলকাতায় এসেছিল শার্প শ্যুটার মায়াঙ্ক, ভিকি ও রাজ। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের মাঝে ঢুকে গুলি করলে তারা ধরা পড়ে যাবে।

দ্বিতীয় দফা ভোটের আগেও চন্দ্রনাথ রথকে খুনের চেষ্টা হয়, জেরায় তথ্য
  • ১৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটের আগে খুনের চেষ্টা হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। তখনও তাঁকে খতম করতে কলকাতায় এসেছিল শার্প শ্যুটার মায়াঙ্ক, ভিকি ও রাজ। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের মাঝে ঢুকে গুলি করলে তারা ধরা পড়ে যাবে। তাই সেবার পরিকল্পনা কার্যকর না করে চলে যায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই তথ্য উঠে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু ভোট মিটে যেতেই তাদের কাছে আবার অপারেশনে যাওয়ার নির্দেশ আসে গ্যাংস্টারের কাছ থেকে।

Advertisement

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, নিজেদের মধ্যে কথা বলার জন্য তারা সিগন্যাল অ্যাপ ব্যবহার করছিল। তাতে তাদের কাছে চন্দ্রনাথের ছবিও পাঠানো হয়। যাতে অপারেশনে গিয়ে তাঁকে চিনতে অসুবিধা না হয়। মায়াঙ্ক জেরায় জানিয়েছে, তারা সোজাসুজি বক্সার থেকে মধ্যমগ্রাম আসেনি। বক্সার থেকে প্রথমে উত্তরপ্রদেশ যায়। সেখানে গিয়ে রাজ সঙ্গে নেয়। এরপর উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের সীমানায় গাড়ি থামিয়ে একটি রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া করে। সেখান থেকে গাড়িতে তেল ভরে। এরপর পশ্চিমবঙ্গে এসে হাজির হয়। 
যদিও মূল অপারেশনের আগে এপ্রিল মাসের গোড়ার দিকে রাজ্যে এসে চন্দ্রনাথের বাড়ি, তাঁর সঙ্গে কারা কারা থাকেন, কোন রুট দিয়ে তিনি যাতায়াত করেন সবকিছু রেকি করে যায়। গাড়ির ছবি তুলে নিয়ে যায়। গ্যাংস্টার প্রথমে জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে খতম করে দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর আপ্ত সহায়ককে। সেইমত তাদের কলকাতা যেতে বলা হয়। গ্যাংস্টারের নির্দেশমত নিশান গাড়ি সহ দুটি গাড়ি নিয়ে আটজন কলকাতা পৌঁছয়। দ্বিতীয় দফার ভোটের চারদিন আগে তারা চন্দ্রনাথের মধ্যমগ্রামের বাড়ির কাছে পৌঁছে যায়। অনেকক্ষণ ধরে তারা তাঁকে অনুসরণ করছিল। বাড়ির কাছে আসার পর তারা খেয়াল করে, সেখানে প্রচুর লোক রয়েছে। তিনজন শার্প শ্যুটার গাড়ি থেকে নেমে ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। কিন্তু লোক আরও বাড়তে থাকে। তাই গুলি না চালিয়ে ফিরে যায়।
ধৃতরা জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, এখানে অপারেশন চালালে তাদের বিপদ আছে। কারণ এই ভিড় থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় ছিল। তাই সেবার চন্দ্রনাথকে খুন না করে তারা বিহার ফিরে যায়। গ্যাংস্টারকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। কিন্তু ভোট মিটে যেতেই তাদের কাছে গ্যাংস্টারের নির্দেশ আসে, এবার চন্দ্রনাথকে একা পাওয়া যাবে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। গ্যাংস্টারের নির্দেশ পেয়ে তারা সব প্রস্তুতি নিয়ে মধ্যমগ্রাম হাজির হয়ে খুন করে চন্দ্রনাথকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ