নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা আর শিউলির সুবাসে বাঙালির ঘরে ঘরে এখন দেবী দুর্গার আগমনি বার্তা। বারাসতের দুই পুজোয় এবার উঠে আসছে দুই ভিন্ন ভাবনা। নওপাড়া গভর্নমেন্ট হাউজিংয়ের মনামি আবাসনের দুর্গোৎসব ৩৭ বছরে পা দিচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তর অশ্বিনীপল্লি সর্বজনীনের পুজো এবার ২৪ বছরে। একদিকে আবাসিকদের মিলনমেলা, অন্যদিকে শহরের বুকে গ্রামের বাড়ির পুজোর আবহ— দুই আয়োজনেই থাকছে বাঙালির চেনা উৎসবের স্বাদ।
মনামি আবাসনের দুর্গোৎসব কেবল দেবীর আরাধনায় সীমাবদ্ধ নয়, আবাসিকদের কাছে এটি মিলন ও সম্প্রীতির উৎসবও। পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনার পাশাপাশি থাকছে নৃত্য, অঙ্কন ও গানের মতো নানা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। কর্মসূত্রে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অনেক আবাসিকই পুজোর টানে ফিরে আসেন পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছে। উদ্যোক্তা ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র বলেন, আবাসিকদের কথা মাথায় রেখেই প্রতি বছর এই পুজোর আয়োজন করা হয়। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে পুজোর দিনগুলিতে সকলে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান। তাই দুর্গোৎসব আমাদের কাছে শুধু বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়, পারস্পরিক সম্পর্ক ও আত্মীয়তার বন্ধন আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ।
অন্যদিকে, উত্তর অশ্বিনীপল্লি সর্বজনীনের এ বারের থিম ‘মাটির টানে গ্রামের বাড়িতে মা’। শহরের দোতলা-তিনতলা বাড়ির ভিড়ে এই মণ্ডপে মিলবে গ্রামবাংলার চেনা পরিবেশ। গোবরলেপা মাটির দাওয়া ও উঠোন, বিচালির ছাউনির মন্দির, মাটির দেওয়ালে আলপনা আর হ্যারিকেনের আলোয় সাবেকি সাজে দেবী দুর্গা— সব মিলিয়ে ফুটে উঠবে গ্রামের বাড়ির পুজোর ছবি। মন্দিরের পাশে থাকবে বসতঘর ও রান্নাঘর। উনুনে তৈরি হবে মায়ের ভোগ। উঠোনের একপাশে গোয়ালে বাঁধা গোরু, ধানের গোলা, বসার খাটিয়া এবং পানীয় জলের জন্য পাতকুয়ো— গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গও সাজসজ্জায় স্থান পাবে। মন্দিরের উপরের গাছে পাখির বাসা থেকে বাড়ির চারপাশের মাটির দেওয়াল, প্রতিটি উপাদানেই ধরা পড়বে গ্রামের বাড়ির আবহ। অষ্টমীর রাতে দর্শনার্থীদের মধ্যে ভোগ বিতরণেরও আয়োজন থাকছে। দুই পুজোর ভাবনা আলাদা হলেও লক্ষ্য এক— দুর্গোৎসবকে মানুষের কাছে তুলে ধরা। কোথাও সম্প্রীতির বন্ধন, কোথাও মাটির টানে শিকড়ের সন্ধান। দেবীর আগমনকে ঘিরে এই দুই আয়োজনেই মিলবে ভক্তি, ঐতিহ্য ও বাঙালির চির চেনা উৎসবের আনন্দ।



