সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: নৈহাটির সরকার বাড়ির দুর্গাপুজো প্রথম শুরু হয়েছিল মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ গ্রামে। মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই পুজো শুরু করেছিলেন রামানন্দ দে সরকার। রাজা কর্ণ সেনের বংশধর ছিলেন তিনি। স্বপ্নে পাওয়া নির্দেশ মেনেই ভোগে মাকে দেওয়া হয় কাঁচা শাক-সবজি, চাল, ডাল, তেল, নুন ইত্যাদি।
কেন কাঁচা সবজি দেওয়া হয় ভোগে? কেন রান্না করা ভোগ নিবেদন করা হয় না? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই পরিবারের সদস্য অংশুমান সরকার। তাঁর কথায়, আমরা ব্রাহ্মণ নই। ব্রাহ্মণ ছাড়া ভোগ রান্না করা যায় না। মা দুর্গা নিজেই স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেছিলেন, কাঁচা ভোগ দিতে। সেই মতো চাল, ডাল, তেল, ঘি, নুন, মশলাপাতি, সবজি সবই কাঁচা দেওয়া হয়। খিচুড়ি বা অন্য ভোগ তৈরি করতে যা যা লাগে, সবই দেওয়া হয় এভাবে। তবে সবজি কেটে দেওয়া হয়। পরে ব্রাহ্মণদের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়। এমনকি, সন্দেশও দেওয়া হয় না ভোগে। পরিবর্তে হাতে তৈরি নাড়ু মিষ্টান্ন হিসাবে দেওয়া হয় মাকে। এই পুজো এবার ৩২৭ বছরে পড়ল।
বংশ পরম্পরায় এ বাড়িতে একচালার প্রতিমা পুজো করা হয়। মা দুর্গার চেনা প্রতিমার সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে প্রতিমার। বিশেষ করে মহিষাসুরের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে। আগে পুজোয় মহিষ বলি দেওয়া হত। সে কারণে মহিষাসুরের অন্য রূপ থাকে এখানে।মহালয়া পরের দিন থেকে পুজো শুরু হয় এই বনেদি বাড়িতে। প্রতিপদে মা চণ্ডীর ঘট বসানো হয়। শুরু হয় দুর্গাপুজো। ওই বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো হয় না, লক্ষ্মীদেবীর আরাধনা হয় কালীপুজোর দিনে। বড়ো করে হয় নারায়ণ পুজো। নৈহাটিতে গঙ্গায় একটি ঘাট রয়েছে, যা লোহাঘাট নামে পরিচিত। সেখানেই হয় বিসর্জন। এখনো পুজোর জাঁকজমক বা আয়োজন কিছু কমেনি সরকার বাড়িতে। পরিবারের ১৩০ জন সদস্য এই পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আনন্দে মেতে ওঠে গোটা সরকার পরিবার। অংশুমানবাবুর কথায়, ১৬৯৯ সালে পুজো শুরু হয় রামানন্দ দে সরকারের হাত ধরে। বিসর্জনের দিন সকালে গঙ্গায় গিয়ে মা গঙ্গাকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পুজো করা হয়। বিকালে মা দুর্গাকে বরণ করা হয় ও সিঁদুর খেলা হয়। বাড়ির সদস্য ও পাড়া-প্রতিবেশীর কাঁধে চেপে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।



