Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ার বেলগাছিয়ায় পালচৌধুরী বাড়িতে আজও গড়ায় ব্রিটিশ আমলের রথের চাকা, জৌলুস হারালেও টিকে রয়েছে ২৮০ বছরের ঐতিহ্য

হাওড়ার পালচৌধুরী বাড়ির ২৮০ বছরের পুরানো রথযাত্রা আজও চলছে। ঐতিহ্য রক্ষায় বলরাম পালচৌধুরীর প্রচেষ্টা। বিস্তারিত পড়ুন।

হাওড়ার বেলগাছিয়ায় পালচৌধুরী বাড়িতে আজও গড়ায় ব্রিটিশ আমলের রথের চাকা, জৌলুস হারালেও টিকে রয়েছে ২৮০ বছরের ঐতিহ্য
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: চারটি এস্টেটের দায়িত্ব, জমিদারির জৌলুস কিংবা বাবুয়ানার দিন আজ ইতিহাস। সময়ের সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছে সেই ঐশ্বর্য। ভগ্নদশার মুখে দাঁড়িয়ে হাওড়ার বেলগাছিয়ার প্রাচীন পালচৌধুরী বাড়ি। তবু সব হারিয়েও একটি ঐতিহ্য এখনও অমলিন। প্রতি রথযাত্রায় এই বাড়ির ২৮০ বছরের পুরানো কাঠের রথে চেপেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা যাত্রা করেন। বাড়ির বর্তমান প্রজন্মের সদস্য সত্তরোর্ধ বলরাম পালচৌধুরীর হাত ধরে টিকে রয়েছে এই প্রথা। যে বাড়িতে একসময় পা রেখেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সেই বাড়ির রথযাত্রা আজও বাঁচিয়ে রেখেছে অতীতের স্মৃতিকে।

Advertisement

জানা যায়, বাড়ির পূর্বপুরুষ রামনারায়ণ পালের ছেলে মধুসূদন পাল কানপুর থেকে হাওড়ায় এসে ব্রিটিশদের কাছ থেকে চারটি এস্টেটের দায়িত্ব এবং ‘চৌধুরী’ উপাধি পান। এরপর থেকেই পালচৌধুরী পরিবারের পরিচিতি গড়ে ওঠে। মধুসূদন পাল ও তাঁর তিন ভাই শিবনাথ, ব্রজনাথ এবং বেণীমাধবের উদ্যোগে শুরু হয় এই রথযাত্রা। ২৮ ফুট উঁচু রথ রথতলা থেকে বেলগাছিয়া পর্যন্ত যেত। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, বাতাসা ছড়িয়ে হাজার হাজার মানুষের শোভাযাত্রায় মুখর হয়ে উঠত গোটা এলাকা। উলটো রথ পর্যন্ত চলত মেলা।
পরিবারের দাবি, বেণীমাধব পালচৌধুরীর আমলে এই বাড়িতে এসেছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঠাকুরদালানের পাশের নাটমঞ্চে তিনি নাটক মঞ্চস্থ করেছিলেন। এই বাড়িতে এসেছিলেন প্রখ্যাত ফুটবলার শৈলেন মান্নাও। মঙ্গলবার রথের চাকায় রং চড়ানোর তদারকি করতে করতে বলরামবাবু বলেন, ‘যতদিন বেঁচে থাকব, এই বাড়ির রথযাত্রা আমার হাত ধরেই চলবে। এরপরের প্রজন্ম এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে কি না, জানি না।’ তাঁর কথায়, ২৮০ বছরের পুরানো কাঠের রথে এখনও লাগানো রয়েছে ব্রিটিশ আমলের ভারী লোহার চাকা। রথ টানতে একশোরও বেশি মানুষের প্রয়োজন হয়। বছরভর রথতলা মাঠের পাশে রাখা রথটি রথযাত্রার প্রায় এক মাস আগে বাড়িতে এনে সংস্কার ও রং করার কাজ শুরু হয়। আর এক দিন পরেই আত্মীয়-স্বজনের আনাগোনায় জমে উঠবে পালচৌধুরী বাড়ি। ভগ্নপ্রায় ঠাকুরদালান ও নাটমঞ্চ যেন প্রতি বছরই ফিরিয়ে আনে হারিয়ে যাওয়া জমিদারি বাংলার এক টুকরো ইতিহাস। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ