বরানগর কাচের মন্দির আশ্রমে দুর্গারূপে পুজিত হন সারদাদেবী
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু, কলকাতা: বরানগর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে (কাচের মন্দির) সারদাদেবীকে পুজো করা হয় দেবী দুর্গা রূপে। এই আশ্রমিক পুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার  মানুষ আসেন বরানগরে। পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিদিন দেবীর বেশভূষার পরিবর্তন হয়। 

Advertisement

আশ্রম সভাপতি স্বামী সত্যপ্রকাশানন্দ ও সাধারণ সম্পাদক স্বামী সারদাত্মানন্দ জানান, সপ্তমীতে মায়ের রাজরাজেশ্বরী বেশ। অর্থাৎ মাথায় সোনার কিরীট, অঙ্গে বেনারসি। অষ্টমীতে যোগিনী বেশ। জটাজুটধারিণী গৈরিক বস্ত্রে ভূষিতা তপস্বিনী উমা। নবমীতে মায়ের কণ্যাকা রূপ। অর্থাৎ শ্রীমণ্ডিতা কুমারী। আর দশমীর দিন ষোড়শী বেশ। এইভাবে চারদিনের মহাসমারোহ ও বৈচিত্র্যের মধ্যে দিয়ে হয় মাতৃদেবীর বিশেষ আরাধনা।
জানা গিয়েছে, আশ্রম প্রতিষ্ঠাতা স্বামী সত্যানন্দদেবের ইচ্ছানুসারে ১৯৫৪ সালে বীরভূমের সিউড়িতে সারদাদেবীর দ্বিভূজা মূর্তি তৈরি হয়। ১৯৫৫ সালে এই মূর্তিকে তিনি সারদা‑দুর্গারূপে পুজো শুরু করেন। তার আগে  সিউড়িতে মাটির দশভুজা মূর্তিতে দুর্গাপুজো হত। কিন্তু মাটির এই মৃন্ময়ী  মূর্তি নিরঞ্জন করতে গিয়ে তাঁর মন কেঁদে ওঠে। তিনি পীড়িত ও ব্যথিত হন। তাই সিউড়িতে শেষবার মাটির মূর্তিতে হয়েছিল দুর্গাপুজো, ১৯৪৪ সালে। তারপর থেকে তিনি সেখানে সারদা মায়ের পটমূর্তি দুর্গারূপে পুজোর প্রচলন করেন। কারণ এই মাতৃসাধকের উপলব্ধি, সারদা সাধারণ নন, তিনি স্বামী বিবেকানন্দ বর্ণিত জ্যান্ত দুর্গা। তিনি লক্ষ্মী, তিনি সরস্বতী। ১৯৫৫ সাল থেকে সারদা মায়ের দ্বিভূজা এই মাটির মূর্তিটিকে দুর্গাপুজোর সময় দশভূজা করে দুর্গারূপে পুজো করা হয়। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত বীরভূমের সিউড়ি শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমে হত পুজো। ’৫৮ সাল থেকে পুজো পাকাপাকি শুরু হয় বরানগর আশ্রমে। যা আজও মহাসমারোহে ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারে চলছে। সারদা মূর্তিটি লক্ষ্মী ও সরস্বতী রূপেও পুজো করা হয়। আশ্রমে দশমীতে শুধুমাত্র ঘট ও নবপত্রিকা (কলাবউ) নিরঞ্জন করা হয় আশ্রমের ঘাটে। তার আগে হয় অপরাজিতা পুজো। বিসর্জন মেটার পর ঘট মাথায় করে পুজো প্রাঙ্গণে রাখা হয়। এরপর হয় ধুনুচি নাচ, লাঠি-তরোয়াল খেলা ও মঙ্গলারতি। আশ্রমে হয় নিত্যপুজো। গোপালের উপস্থিতিতে হয় অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় হয় আশ্রম প্রাঙ্গণে বিজয়া দশমী।