Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানাঘাটে আশাকর্মীদের বাস আটক, প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ

স্বাস্থ্যভবন অভিযানে যাওয়ার পথে প্রশাসনের বাধার মুখে আটকে গেল আশাকর্মীদের বাস। তার প্রতিবাদে রানাঘাটে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা।

রানাঘাটে আশাকর্মীদের বাস আটক, প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ
  • ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: স্বাস্থ্যভবন অভিযানে যাওয়ার পথে প্রশাসনের বাধার মুখে আটকে গেল আশাকর্মীদের বাস। তার প্রতিবাদে রানাঘাটে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। যার জেরে বেশ খানিকক্ষণ জাতীয় সড়কের দু’টি লেনেই যান চলাচল বন্ধ থাকে।

Advertisement

বুধবার সকালে আশাকর্মীদের বাস আটকালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় রানাঘাট থানার অন্তর্গত ঘাটিগাছা মোড় এলাকায়। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমা থেকে প্রায় ৮০ জন আশাকর্মী একটি বেসরকারি বাসে করে কলকাতার স্বাস্থ্যভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতেই যাত্রা করেছিলেন তাঁরা। তবে জাতীয় সড়ক ধরে রানাঘাটে পৌঁছতেই বাসটি আটকায় পুলিশ।

হঠাৎ বাস আটকানোয় ক্ষোভে ফেটে পড়েন আশাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে তাঁদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। পুলিশ কোনও সন্তোষজনক কারণ না জানানোয় বিক্ষোভ তীব্র আকার নেয়। সকাল দশটা নাগাদ আশাকর্মীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বসে পড়ে অবরোধ শুরু করেন। এর জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়ে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রানাঘাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশের সঙ্গে আশাকর্মীদের দফায় দফায় বচসা চলে। যদিও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়, তবে বাসটিকে দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলেই দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তাতেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। আশাকর্মীরা স্লোগান তুলে নিজেদের দাবির কথা বারবার তুলে ধরেন। আশাকর্মীদের বক্তব্য, কাজের নির্দিষ্ট সময়, সামাজিক সুরক্ষা, অবসরকালীন ভাতা এবং স্থায়ী কর্মীর স্বীকৃতির দাবিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকার কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না করায় বাধ্য হয়েই তাঁরা স্বাস্থ্যভবন অভিযান কর্মসূচি নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাসটি জাতীয় সড়কে দ্রুতগতিতে চলছিল। নিরাপত্তার স্বার্থেই সেটিকে থামানো হয়। পুলিশ সূত্রের আরও দাবি, কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুপুরের দিকে বাসটিকে কলকাতার দিকে না পাঠিয়ে মুর্শিদাবাদের দিকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আশাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত আরও একবার সামনে এল।

সম্পর্কিত সংবাদ