নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলে জিটি রোডের উপর আশ্রম মোড়। সেখানেই ছিল পুরনো রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম। পরবর্তীকালে সেনর্যালে রাস্তার উপর ঝোপ জঙ্গলে ঘেরা বিশাল জমিতে গড়ে উঠে নতুন আশ্রম। অপূর্ব সুন্দর মন্দির, সাজানো বাগান সব মিলিয়ে আসানসোলের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। রাস্তা থেকে মন্দির অবধি রাস্তা পেভার ব্লক দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল।
সময়ের সঙ্গে সব সৌন্দর্যই ফিকে হয়। পেভার ব্লকের রংও ফিকে হয়ে গিয়েছিল। দশ বছর পর মিশন কর্তৃপক্ষ সেই রাস্তা রং করল। যা দেখে আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুলের পড়ুয়ারা খুশি। তারা সেই নতুন রঙের উপর আলপনা এঁকে সৌন্দর্য আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সুবিশাল মন্দির ও চত্বর আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পত পত করে উড়ছে ওম লেখা গেরুয়া ধ্বজাগুলি। পুজো উপলক্ষে নহবত বসে, সানাই বাজানো হয়। তা তৈরি করা হয়ে গিয়েছে। মন্দির চত্বরে মায়ের প্রতিমা গড়ার কাজও শেষ। রামকৃষ্ণ মন্দিরেই মায়ের মণ্ডপ। শুক্রবার চণ্ডীপাঠ ও দেবীর বোধনের মাধ্যমে পুজো শুরু হতে চলেছে। সোমবার অষ্টমীর দিন সকাল ন’টা থেকে শুরু হবে কুমারী পুজো। এই পুজো দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা ছুটে আসেন। প্রতিদিনই মানুষের ঢল নামে। অষ্টমীর কুমারী পুজো দেখতে বিশাল মন্দিরে তিল ধারনের জায়গা থাকে না। তবে শুধু পুজোর দিনগুলি নয়, আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম জেলার মুখ্য পর্যটন স্থল হয়ে উঠছে ক্রমশ। শহরের বুকে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মন্দিরের শান্ত পরিবেশ মানুষকে আকৃষ্ট করে। একাধিক গেস্ট হাউসে ৩০ জনের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্যই। ভক্তরা শান্তির খোঁজে এখানে আসতে চান। যদিও কর্তৃপক্ষ গেস্ট হাউস গড়ার থেকে স্কুল, আইটিআইয়ে নতুন বিল্ডিং গড়তে বেশি উদ্যোগী। আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সম্পাদক স্বামী সৌমাত্মানন্দ বলেন, আমাদের স্কুলটি দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অনুমোদন পেয়েছে। নতুন তিনতলা বিল্ডিং তৈরি শুরু হয়েছে। স্মার্ট ক্লাসরুম ও আধুনিক ল্যাব বিভিন্ন সংস্থা তাঁদের সিএসআর ফান্ড থেকে গড়ে দিচ্ছে। আমাদের এখানে আইটিআই, ভোকেশনাল ট্রেনিং ও ফ্রি কোচিংও চলে।



