সংবাদদাতা, বহরমপুর: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আর হাতে গোনা কয়েকদিন বাকি। এর মধ্যেই বহরমপুরে রবিবারের পুজোর বাজার জমে উঠল। বিশেষ করে জামা-কাপড়ের দোকানগুলিতে দিনভর খরিদ্দারের ভিড় ছিল। শহরের খরিদ্দারদের ভিড়ে দোকানগুলি থিকথিক করছিল। তবে বিক্রি নিয়ে ব্যবসায়ীরা আংশিক খুশি। তবে কিছুটা হলেও তাঁরা অপ্রসন্ন। ব্যবসায়ীদের দাবি, পুজোর বাজারে শনি, রবিবার এবং ছুটির দিনগুলি তাঁরা নজরে রাখেন। শনি, রবিবার যে হারে ভিড় থাকার কথা এদিন তা ছিল না। ভাগীরথীর উপর সেতু সংস্কারের কাজ চলায় বাইরের বহু খরিদ্দার ঝুঁকি নিয়ে বহরমপুর আসতে পারেননি বলেই ব্যবসায়ী মহলের দাবি।
পুজোর কেনাকাটায় বাঙালিরা অতি উৎসাহী হয়ে ওঠেন। বছর কয়েক ধরে পুজোর কেনাকাটায় বহু পরিবার একাধিকবার দোকানে আসা শুরু করেছেন। পছন্দের পোশাক জুতো কিনে নিয়ে যান। বিশেষ করে শহরের মানুষ পুজোর এক দেড়মাস আগে থেকেই একটু একটু করে কেনাকাটা শুরু করে দেন। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসে কেনাকাটায় তত বেশি হিড়িক পড়ে। চাকরিজীবীদের পকেটে পুজোর বোনাস ঢুকলেই একপ্রস্ত বাজার করার প্রবনতা থাকে। এবার মুর্শিদাবাদে পাট চাষিরা পাটে ভালো দাম পেয়েছেন। সেই হিসাবে ব্যবসায়ীরা ভালো বিক্রির আশায় মুখিয়ে রয়েছেন। বহরমপু শহরে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই পুজোর বাজার শুরু হয়ে গিয়েছে। শনি, রবিবারে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। মুর্শিদাবাদ জেলা চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি তথা বস্ত্র ব্যবসায়ী শেখর মারুঠী বলেন, আজকের রবিবারের বাজার মোটেই আশানুরূপ নয়। ভাগীরথী নদীর উপর সেতু সংস্কারের কাজ চলায় শনি ও রবিবার দু’দিন ব্রিজে যাতায়াত নিষিদ্ধ। নৌকায় নদী পেরিয়ে বহরমপুরে ঢুকতে হচ্ছে। যার ফলে ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ের বহু খরিদ্দার নৌকায় পারাপারের ঝুঁকি নিয়ে আসতে পারেননি। তবে পরের সপ্তাহ থেকে স্বাভাবিক হয়ে যাবে পরিস্থিতি। বস্ত্র বিক্রেতা অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, প্রশাসনের কাছে জানিয়েছিলাম পুজোর আরও আগে সেতু মেরামতির কাজ হোক। এই সপ্তাহের শনি রবিবারের বিক্রিতে ধাক্কা দিয়েছে সেতুর সংস্কার। তবে খরিদ্দার যে ছিল না তা নয়। শহরের মানুষ এবং গঙ্গার পূর্বপাড়ের খরিদ্দারের ভিড় ছিল। • নিজস্ব চিত্র