নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর ও বারাকপুর: ষষ্ঠীতে জনপ্লাবনের রূপ নিল উত্তর শহরতলি ও শিল্পাঞ্চল। দমদম, বরানগর থেকে শুরু করে পানিহাটি, নিউ বারাকপুরের বিগ বাজেটের প্রতিটি পুজো মণ্ডপে কার্যত জনস্রোত। একই অবস্থা বারাকপুর, ভাটপাড়া, জগদ্দলে। দুপুরের পর থেকেই মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত যত বেড়েছে, ততই ভিড় বেড়েছে রাজপথে। কোথাও কোথাও দর্শনার্থীদের লাইন আধ কিমি পর্যন্ত চোখে পড়েছে।
বিকেল থেকে দমদম রোড ও যশোর রোড মানুষের দখলে চলে যায়। দমদম স্টেশন থেকে নাগেরবাজার পৌঁছাতে সময় লেগেছে ঘণ্টাখানেক। বিটি রোড সহ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জনতার ঢল সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশকে। এদিন মেঘ ও বৃষ্টির খেলা ছিল না। আকাশ পরিষ্কার থাকায় দুপুরের দিকে বিভিন্ন মণ্ডপে বয়স্কদের ভিড় চোখে পড়েছে। একইভাবে পারিবারিক পুজো, পাড়ার পুজো ও আবাসনে শুরু হয় জমাটি আড্ডা। বেলা গড়ানোর আগেই দমদমের নামকরা পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। দমদম পার্কে চারটি বড়ো পুজো রয়েছে। ভারতচক্র থেকে শুরু করে দমদম পার্ক সর্বজনীন, তরুণ সংঘ ও তরুণ দলের অসাধারণ থিমের মণ্ডপ দেখতে জনতার ঢল নামে। যশোর রোডের উলটোদিকে তেলিপুকুর যুব সংঘের পুজোয় ভিড় ভেঙে পড়ছে। বিকেল থেকে জনপ্লাবন শুরু হওয়ায় যশোর রোড ও দমদম রোডে যানজট মারাত্মক আকার নিয়েছে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ছিল এই যানজট। দমদমের দুর্গানগরে ইসকন মন্দির দেখতেও জনতার ঢল নামে। বরানগরের চিত্রও কমবেশি এক। সিঁথির মোড় বন্ধুদল ক্লাবের পুজো মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়ছে। বিশাল মণ্ডপের পাশাপাশি সিঁথির মোড়ের মেলা এখানে বাড়তি পাওনা। বরানগরে ভিড় টানার নিরিখে এগিয়ে রয়েছে লোল্যান্ড সর্বজনীন। এখানকার হরিদ্বারের মণ্ডপ ও গঙ্গা আরতি দেখতে জনস্রোত পড়ছে। কামারহাটির মতো পানিহাটিতেও রাত জেগে ঠাকুর দেখার পাশাপাশি রেস্তরাঁগুলিতে ভিড় উপচে পড়েছে। শহিদ কলোনি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোয় জলের নীচে থাকা দ্বারকানগরী থিম দেখতেও জনস্রোত বইছে।
বারাকপুরে দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন পড়েছে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপে। পাশাপাশি রেস্তরাঁগুলিতেও ভিড় যেন উপচে পড়েছে। সন্ধ্যায় তা জনজোয়ারে পরিণত হয়। বারাকপুর স্টেশন থেকে চিড়িয়ামোড় পর্যন্ত আসতেই কালঘাম ছুটেছে দর্শনার্থীদের। অধিকাংশই বড়ো বড়ো মণ্ডপ পঞ্চমীর দিনেই উদ্বোধন হয়েছে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বেশ কয়েকটি পুজো কলকাতার পুজোকে রীতিমতো টেক্কা দিয়েছে এবার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বারাকপুর চিড়িয়া মোড় যুবশক্তির মানস, নোনা চন্দনপুকুরে মধ্যনোনা অধিবাসীবৃন্দ, পলতার নেতাজি সংঘ, ইছাপুর আনন্দমঠের কেন্দ্রীয় সর্বজনীন ও হরিসভা ক্লাব, নৈহাটি রাজেন্দ্রপুর মৎস্য ব্যবসায়ী কমিটি, হালিশহর বাগমোড়ের ব্যবসায়ী সমিতি ইত্যাদি। পঞ্চমী থেকেই এখানে মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। রীতিমতো উৎসবের মেজাজ বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে।
এরই মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাসের পুজো বলে পরিচিত মধ্য নোনা অধিবাসীবৃন্দের মাতৃ আরাধনাকে কেন্দ্র করে। ওই পুজো উদ্বোধন করেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। ছিলেন প্রয়াত মণীশ শুক্লার বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা। তবে স্থানীয় বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীকে দেখা যায়নি। তাঁর অনুগামীরা সোশ্যাল মিডিয়া এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্ক তৈরি করেছেন। এরমধ্যে আজ, শনিবার সপ্তমীর সকালে সোদপুর, বারাকপুর, নৈহাটি এবং হালিশহরে পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনের কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। পুজোয় যাতে কোনো গোলমাল না হয়, মহিলাদের সুরক্ষা যাতে বজায় থাকে, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে বারাকপুর কমিশনারেট।



