


নয়াদিল্লি: ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র- আর আলস্য। এমন অদ্ভূত ভাবনা নিয়ে পথ চলা শুরু ‘ককরোচ বা আরশোলা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র। তা কি নতুন কোনও রাজনৈতিক দল? নাকি নিছকই কটাক্ষ? সম্প্রতি একটি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ‘আরশোলা’ মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তারপরেই এই ব্যাঙ্গাত্মক ‘রাজনৈতিক দল’ গঠনের কথা জানানো হয়। এই মঞ্চের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় মাত্র ২ দিনেই তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদ। সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ, প্রাক্তন সিভিল সার্ভেন্ট আশিস যোশীও রয়েছেন এই তালিকায়।
সিজেপি তৈরির ভাবনার নেপথ্যে অভিজিৎ দীপকে নামে এক যুবক। তিনি ২০২০ সালের দিল্লি নির্বাচনের সময় আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিজেপি জানিয়েছে, ‘শাসনব্যবস্থার প্রতি হতাশ’ মানুষদের জন্যই তাঁদের এই দল। গঠনের মাত্র ২ দিন পেরিয়েছে। এই অল্প সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ট্রেন্ডিং’ তারা।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মহুয়ার তীর্যক টিপ্পনি, ‘একটি দেশবিরোধী দলের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আমি সিজেপিতে যোগ দিতে চাই।’ প্রত্যুত্তরে সিজেপির পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে, ‘যারা ভোট চুরি ও ধর্মীয় উস্কানি দেয়, তারাই আসল দেশবিরোধী। আপনি গণতন্ত্রের সৈনিক। আপনাকে সিজেপিতে স্বাগত।’ সিজেপিতে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা জানতে চেয়ে পোস্ট করেছিলেন কীর্তি আজাদও। তাঁকে সিজেপি উত্তর দিয়েছে, ‘১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয় দলে যোগ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’
যোগদানের জন্য চারটি শর্ত রেখেছে সিজেপি। তাঁরা জানিয়েছে বেকার, অলস, সারাদিন অনলাইন ও কর্মস্থলে প্রতিবাদী ব্যক্তিরাই দলে যোগ দিতে পারবেন। সিজেপির পক্ষ থেকে একটি ইস্তাহারও প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে ৫ দফা অ্যাজেন্ডার কথাও জানিয়েছে তারা।